র‍্যাঙ্কিংয়ে না থাকা আফগানিস্তানও কেন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

ট্রফির সঙ্গে দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও রহমত শাহ

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের স্মৃতি কী? উত্তরে কারও যদি ডারউইন টেস্টের কথা মনে পড়ে, তাঁকে দায় দেওয়ার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ওই স্মৃতি সব সময়ই জ্বলজ্বল করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ম্যাকাইয়ে সিরিজের পরের টেস্টে দুই দিনে হেরে যাওয়ার ঘটনাও ভোলাতে পারার কথা নয় ডারউইনের অবিস্মরণীয় জয়টাকে।

আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সমতায় শেষ হওয়া সিরিজের পর আজ আবার এই সংস্করণে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল; কিন্তু এবার তারা খেলবে একেবারেই বিপরীত মেরুতে থাকা দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দুপুর ১২টায় শুরু এই টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের নাম যে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়েই নেই!

তিন বছরে ৮ টেস্ট খেলতে না পারলে আইসিসির টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে নাম ওঠে না। বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচটা আফগানিস্তানের এই সময়ের মধ্যে ষষ্ঠ টেস্ট। র‌্যাঙ্কিংয়ে নাম তুলতে তাদের আরও দুটি টেস্ট খেলতে হবে। এতটুকু পড়ে নিশ্চয়ই আফগানিস্তানকে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে। তাহলে কিন্তু একটু ভুলই করবেন।

আফগানদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। জয়–পরাজয়ের হার ফিফটি–ফিফটি। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে মিরপুরে অবশ্য বাংলাদেশও জিতেছিল ৫৪৬ রানের বড় ব্যবধানেই। জয়–পরাজয়ের হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজটা এবার কঠিন কিছু বাস্তবতার কারণেও।

অনুশীলনের সময় মুখে পানি দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ
বিসিবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্টে এবারই প্রথম খেলবে তারা। আবুধাবিতে প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাওয়া তাপমাত্রা এখন। এত প্রচণ্ড গরমে পাঁচ দিন ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নেই। অন্যদিকে আফগানিস্তান দল আরব আমিরাতে তিনটি টেস্ট তো খেলেছেই, তাদের ক্রিকেটাররাও বছরের বেশির ভাগ সময় থাকেন সেখানেই। তার ওপর যে দুটি দেশকে তারা ‘ঘরের মাঠ’ বানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার মধে৵ একটি, অন্যটি ভারত।

কাজেই একমাত্র এই টেস্টের কন্ডিশন পুরোপুরি আফগানদের অনুকূলে এবং বাংলাদেশের প্রতিকূলে। আমিরাতে বাংলাদেশ একে তো আগে টেস্ট খেলেনি, এবারও দলের অনেকে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার খুব বেশি সুযোগ পাননি। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার গত ১ অক্টোবর আমিরাতে চলে গেলেও জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে খেলা ক্রিকেটারদের পাঁচজন আবুধাবিতে মাত্র দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন।

জাপানে ছিল বৃষ্টি আর সহনশীল আবহাওয়া, আবুধাবিতে প্রচণ্ড গরম। আবহাওয়ার এই তারতম্যে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি পরশু বলেছেন, ‘যারা জাপান থেকে এসেছে, তারা কীভাবে এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।’

নাঈম হাসানেরও একাদশে থাকার গুঞ্জন ছিল
বিসিবি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হওয়ায় আফগানিস্তান টেস্ট বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার লক্ষ্যপূরণে কোনো প্রভাবক হবে না। তবে এই টেস্টের ভালো পারফরম্যান্স সামনে থাকা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস হতেই পারে।

আবুধাবির গরমের সঙ্গে আফগান স্পিন পরীক্ষার সামনেও পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকে। আফগানিস্তান দলে তিন স্পিনার থাকারই সম্ভাবনা। উইকেট স্পিন সহায়ক হবে, প্রতিপক্ষ স্পিন শক্তিতে বলীয়ান—এমন কথাবার্তা কোচ সিমন্সও বলেছেন। যদিও গতকাল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘উইকেট দেখে ভালো মনে হয়েছে, হয়তো একটু ধীরগতি থাকতে পারে; কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। আশা করছি, খুব ভালো একটা টেস্ট ম্যাচই হবে।’

আবুধাবির উইকেট সম্পর্কে আরেকটু স্পষ্ট ধারণা বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা থেকেও পাওয়া যাচ্ছে। দলের সঙ্গে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে গেলেও অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে শেষ পর্যন্ত টেস্টের একাদশে রাখার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন