বাংলাদেশ এখানে লড়াই করতে এসেছে—দুর্দান্ত দিনে অস্ট্রেলিয়ানদের প্রশংসা
দিনটা মনে রাখার মতোই। ২৩ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের দিনটা ব্যাটে–বলে স্মরণীয় করে রেখেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে দুই শর কমে অলআউট করে প্রায় অর্ধেক রান এরই মধ্যে শোধও করে দিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এ মুহূর্তে ১০২ রানে পিছিয়ে নাজমুল হোসেনের দল। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৬ উইকেট, পরে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান–মুমিনুল হক অবিচ্ছিন্ন থেকেছেন ৬০ রানের জুটি গড়ে।
এমন দুর্দান্ত একটা দিনের পর অস্ট্রেলিয়ান সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাংলাদেশকে। সাবেক লেগ স্পিনার ক্যারি ও’কিফ যেমন কায়ো স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা দিন।’
দুই বছর আগপর্যন্তও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। এই সংস্করণে এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ২৬টি সেঞ্চুরি আছে তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো দলকে শুরু থেকেই এতটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে তিনি দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্নার।
ডারউইন টেস্টে ফক্সের হয়ে ধারাভাষ্য দেওয়া এই ওপেনারের মুখেই তা শুনুন, ‘আমি অনেক ক্রিকেট খেলেছি ও দেখছি। অনেক দলকেই অস্ট্রেলিয়া সফরে আসতে দেখেছি। তবে সত্যি বলতে, আমার দেখা প্রথম কোনো সফরকারী দল হিসেবে তাদের বোলাররা শুরু থেকেই একদম নিখুঁত জায়গায় বল করে গেছে। তারা কোনো ছাড় দেয়নি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কাজটা মোটেও সহজ নয়, কিন্তু তারা তা করে দেখিয়েছে।’
ওয়ার্নারের কথার সূত্র ধরে ক্যারি ও’কিফ ফক্সের ধারাভাষ্যে পরে বলেন, ‘আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের জন্য এটা একটি পরিষ্কার বার্তা— বাংলাদেশ দল এখানে নিছক খেলতে আসেনি, লড়াই করতে এসেছে। অনেকেরই ধারণা ছিল ম্যাচটা বেশি দূর গড়াবে না, কিন্তু প্রথম দিনে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবেই এগিয়ে আছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ভালো লাইন–লেন্থে বল করে গেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। তাতেই খেই হারিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। সাত মাস পর টেস্টে ফেরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান ৩০ রানও করতে পারেননি। জ্যাক ওয়েদেরাল্ডের ব্যাট থেকে এসেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান।