পরশু গেবেখা টেস্টের প্রথম দিনে টেম্বা বাভুমা যখন উইকেটে আসেন, ১২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর উইকেটের অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়েই তিনি দেখেছেন ১১০ রানে দলের ৬ উইকেট নেই। অথচ সেখান থেকেই কি না অবিশ্বাস্য একটা প্রতিরোধ গড়ে ফেললেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
৫৫২ মিনিট আর ৩৩৪ বলের ইনিংসে ১৮ চার ও ১ ছক্কায় বাভুমা করেছেন ১৭৯ রানের ইনিংস। বৃষ্টি–বিঘ্নিত ম্যাচে আজ তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরিটা পেয়েছেন বাভুমা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি, নিজের টেস্ট–সর্বোচ্চ ইনিংস তো বটেই, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো অধিনায়কেরও সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এটাই।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বাভুমা আউট হওয়ার পর ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৪ ওভার ব্যাট করেই ১ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া, করেছে ৩ রান। নিক ম্যাডিনসন কাগিসো রাবাদার বলে আউট হয়ে গেছেন শূন্য রানে। এখনো কেবল এক ইনিংস শেষ হলেও টেস্টের শেষ দুই দিন কিছুটা রোমাঞ্চ যে থাকবে, সেটির ইঙ্গিতও যেন মিলেছে তাতে।
আজ তৃতীয় দিনের শুরুটা বাভুমা করেন ৪১ রানে অপরাজিত থেকে, দিনের ৬ ওভার শেষ হওয়ার আগেই আউট হয়ে যান তাঁর সঙ্গী উইয়ান মুল্ডার। এরপর মার্কো ইয়ানসেন সঙ্গী হন বাভুমার। দুজনের জুটিতেই একটু একটু করে বিপদ থেকে বের হতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের ১৮৫ বলের জুটিতে আসে ১৩২ রান। ৮৫ রান করে আউট হয়ে সেঞ্চুরির আক্ষেপে পোড়েন ইয়ানসেন।
তবে ২২৬ বলে টেস্টে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পান বাভুমা। তাঁর পাঁচ সেঞ্চুরির চারটিই এসেছে অধিনায়ক হিসেবে। শুধু সেঞ্চুরি করেই তিনি থামেননি, অষ্টম উইকেটে সাইমন হারমারের সঙ্গে ১৮৩ রানের জু্টি গড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসটাও চার শ ছাড়িয়ে যায়।
হারমার অবশ্য সেঞ্চুরি পাননি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অষ্টম উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ার পর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৮২ রানেই থামেন। ৫ উইকেট পান অস্ট্রেলিয়ার স্কট বোল্যান্ড। কিন্তু এর মধ্যেই বাভুমার দুর্দান্ত ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে হারাটা কঠিন।