default-image

স্বাভাবিকভাবেই প্রথম ওয়ানডের জয় বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের অনুরণন ছড়াচ্ছে। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পাওয়া প্রথম এই জয়ের পর দৃষ্টিসীমায় এখন সিরিজ জয়। আর এক ম্যাচ জিতলেই দক্ষিণ আফ্রিকার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকেও ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফিরবে তামিম ইকবালের দল। প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সেটি করে ফেলতে চাইবে আজকের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই। না হলেও ১৬ জুলাইয়ের শেষ ম্যাচ তো আছেই।

টেস্ট এবং টি–টোয়েন্টিতে হারের স্রোতে ভাসা ক্রিকেটাররা প্রথম জয়ের দেখা পেয়ে কেমন আছেন? ‘স্বস্তিতে’—এক শব্দে এটাই উত্তর এবং সেই স্বস্তির হাওয়া দলের মধ্যে বইছে নানাভাবেই। প্রথম ওয়ানডের পরের দিনটার কথাই ধরুন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এসে সিরিজ জয় শুরুর পর সত্যিকার অর্থে বিশ্রাম যদি বলেন, সেটি পরশুই প্রথম পেলেন ক্রিকেটাররা। হ্যাঁ, বৃষ্টির কারণে অনেক দিনই অনুশীলন বাতিল করে দল হোটেলে থেকেছে। ভ্রমণের দিনগুলোতেও অনুশীলন হয়নি। কিন্তু এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যাওয়া বা বৃষ্টিতে অনুশীলন হবে কি হবে না, এসব টেনশনে দিন কাটলে সেটা তো আর বিশ্রাম হয় না। প্রথম ওয়ানডে জয় সেই অর্থে পরশুই পূর্ণ বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়েছে সবাইকে। আগের দিন হারলে নিশ্চিত এদিনও মাঠে যেত দল।

বিশ্রাম বলতে পুরোপুরিই বিশ্রাম। কোথাও ঘুরতে যাওয়া নয়, টিম মিটিং নয়, এমনকি দলের কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনেও কথা বলতে আসেননি। টিম ম্যানেজমেন্ট চেয়েছে বিশ্রামের দিনটা ক্রিকেটাররা একান্তই নিজের মতো করে কাটাক। বৃষ্টি বাধা না হলে গতকাল অনুশীলন হওয়ার কথা। না হলেও দলের প্রতি কোচিং স্টাফের বার্তা যা দেওয়ার দেওয়া আছে। সিরিজ জিততে হলে প্রথম ওয়ানডের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হবে। প্রথম ওয়ানডের পর জয়ের সমান্তরালে যেমন আলোচনা হয়েছে ক্যাচ ছাড়া নিয়ে। চার–চারটি ক্যাচ না পড়লে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে দেওয়া যেত আরও আগেই।

default-image

অতৃপ্তি ব্যাটিং নিয়েও কিছুটা আছে। প্রতিপক্ষ কম রানে অলআউট হয়ে গেলে যত ভালোভাবে ম্যাচটা জিতে যায়, ততই তো কৃতিত্ব। বড় দলগুলো তাই করে এবং বড় দল হয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশ দলের খেলায়ও সেই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে হবে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪৯ রানের জবাবে ৯৮ রানে হারাতে হয়েছে তিন উইকেট, পরে উইকেট পড়েছে আরও একটি।

লিটন দাসের এলবিডব্লুটা না হয় ‘আম্পায়ার্স কলে’। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করতে করতে তামিমের রানআউট, নাজমুল হাসানের কাছে যখন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটিতে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরার জোরালো দাবি, তখন তাঁরও কাজ অসমাপ্ত রেখে ড্রেসিংরুমে ফেরা জয়ের ঔজ্জ্বল্য কিছুটা হলেও কমিয়েছে।

সেদিন খেলা শেষে ক্যাচ মিস আর নাজমুলের ম্যাচ জিতিয়ে আসতে না পারা নিয়ে অসন্তোষ ছিল তামিম ইকবালের কথায়ও। ‘কিছু মানুষ বারবার ক্যাচ ছাড়ছে’ বলে নিজের বিরক্তিটা গোপন করেননি তিনি। নাজমুলের ক্ষেত্রে তো স্পষ্ট করেই বলেছেন, এ রকম সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক।

সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলী দলে নেই। নাজমুলের জন্য এই সিরিজ ভালো সুযোগ দলে পাকা জায়গার দাবি জানানোর। কিন্তু বারবারই সুযোগগুলো হেলায় নষ্ট করছেন এই ব্যাটসম্যান। টেস্ট সিরিজে দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েও বড় ইনিংস আসেনি ব্যাট থেকে। সেন্ট লুসিয়ার দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসেই ভালো শুরু করেছেন, তবে আউট হয়ে গেছেন ২৬ আর ৪২ রান করে। এরপর প্রথম ওয়ানডেতেও ভালো শুরু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি নিজের উইকেট।

default-image

অথচ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্স দিয়ে আট বছর পর দলে আসা এনামুল হককে ড্রেসিংরুমে বসিয়ে রেখে সুযোগটা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। অধিনায়ক তামিম যদিও মনে করেন, গত কয়েক সিরিজ তাঁকে দলের সঙ্গে রেখে এখন বসিয়ে দেওয়াটা যুক্তির কথা নয়, তবু নাজমুলের ‘লাইফলাইন’ বোধ হয় শেষের পথে। হুট করে কারও কোনো সমস্যা না হলে আজও প্রথম ম্যাচের দলটাই খেলার কথা। তবে শেষ ওয়ানডের একাদশ নির্বাচনে বড় হয়ে উঠতে পারে ব্যাট হাতে নাজমুলের আজকের পারফরম্যান্স।

‘আম্পায়ার্স কলে’ এলবিডব্লুর পর লিটনের প্রতিক্রিয়া এবং তাতে তামিমের যোগ দেওয়াটাও প্রথম ম্যাচের ভুলত্রুটির তালিকায় থাকবে। ক্রিকেট খেলাটা যেহেতু এখন প্রযুক্তির শর্ত মেনেই হয়, এসব সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেও তা মেনে নেওয়াই শ্রেয়। সবাই তা–ই নেয়। আর ওই সময় তামিমও যেন একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেটা নিশ্চয়ই দলের ভালো চিন্তা করে। কিন্তু অধিনায়কের এমন উত্তেজনা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তামিম নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়াতেই হয়তো এ যাত্রায় বড় বিপদ এড়ানো যাবে। কিন্তু যে ভুল স্বীকারই করতে হয়, সেই ভুল না করলে কি হয়!

কথাটা কিন্তু প্রথম ওয়ানডের জয়ের ঔজ্জ্বল্য কমানো সব ভুলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন