‘যেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্মান নেই, সেই খেলা আমাদের দেখানোরও দরকার নেই’—খালেদ মাসুদ
‘একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি যেটা অনুভব করছি, খেলোয়াড়কে যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে যেকোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এই মন্তব্য বিসিবি পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদের। কী বিষয়ে বলেছেন, তা মন্তব্যটি পড়েই আন্দাজ করে ফেলার কথা। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে গত পরশু ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কলকাতা এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করায় মোস্তাফিজের এ বছর আর আইপিএলে খেলা হচ্ছে না।
বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে বিসিবি ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আইপিলের সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খালেদ মাসুদ এ নিয়ে বলেন, ‘খেলার মধ্যে রাজনীতি আসা উচিত না। ক্রিকেটের জায়গায় ক্রিকেট থাকা উচিত। আমি মনে করি খেলাধুলা মানুষকে এক করে।’ তবে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে খালেদ মাসুদ বলেন, ‘যে ইস্যু নিয়ে মোস্তাফিজকে (ফেরত) পাঠানো হয়েছে, সেটা কিন্তু বোধগম্য না। পারফরম্যান্সের কারণে হতে পারত। কিন্তু কোনো কিছুই না, তবু এটা করা হলো, যা আমাদের সবাইকে ছুঁয়ে গেছে। দিন শেষে আমাদের স্বার্থটা দেখতে হবে। যেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্মান নেই, সেই খেলা আমাদের দেখানোরও দরকার নেই। আমরা ক্রিকেট ভালোবাসি, সব রকম খেলা ভালোবাসি। কিন্তু যখন আমাদের এক নাগরিককে অসম্মান করবেন, আমার মনে হয় ওটা (আইপিএল) এড়িয়ে যাওয়াই উচিত। আর আমি আইপিএল এমনিতেও ওভাবে পছন্দ করি না।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে বিসিবির ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে খালেদ মাসুদ বলেন, ‘মোস্তাফিজকে যখন নিরাপত্তা দিতে পারেনি, তখন বোর্ড নিরাপদ মনে করেনি।’ খালেদ মাসুদের আশা, ‘এই সমস্যার সমাধান হবে, তবে বাংলাদেশের নিজের পায়ে দাঁড়ানো উচিত। আমরা আমাদের মতো করে চলব। আইসিসি এটা ঠিক করার ব্যবস্থা করবে এবং আমার মনে হয় এটা খেলার মাধ্যমে সম্ভব।’
খালেদ মাসুদ মনে করেন, বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কে বর্তমানে যে সমস্যা চলছে সেটার সমাধানে, ‘রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিকভাবে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। আমি মনে করি রাজনীতিবিদদের এই জিনিসটা থেকে সরে আসা উচিত। বিশেষ করে যেটা মোস্তাফিজকে নিয়ে হয়েছে, সেটা ভালো কাজ হয়নি। খেলার মাঠে এসব না আসাই ভালো।’
আইসিসির চেয়ারম্যান বিজেপির রাজনীতিবিদ অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ। তিনি এর আগে বিসিসিআইয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদ মাসুদ তাই বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ খেলব কিন্তু আইসিসির অধীনে। চিঠিটা তাই দিতে হয় আইসিসিকে। আইসিসি কতটা ন্যায্য, কতটা অন্যায্য থাকবে, তা আমরা সবাই জানি। আইসিসির ওপর প্রভাব খাটায় কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তো অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ন্যায্য বিচারটা হয় না—এটা আমার অনেক সময়ই মনে হয়েছে একজন খেলোয়াড় হিসেবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্থানে থাকা ভালো। প্রতিপক্ষ কী করছে, আইসিসি কী করছে—আমার মনে হয় এসবের চেয়ে আমরা কী পারব, কী পারব না, এ বিষয়ে সরাসরি মতামত থাকা ভালো।’
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিন ভারতের কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে আরও যে তিনটি ম্যাচ আছে, সে সবই কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। গতকাল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।