‘কোনো বইয়ে লেখা নেই যে ম্যাচ শেষে হাত মেলাতে হবে’
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তো স্নায়ুর যুদ্ধ, গ্যালারির গর্জন আর রেকর্ডের কাটাছেঁড়া। কিন্তু কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—দুই দলের ক্রিকেটাররা কি হাত মেলাবেন? উত্তেজনার আগুনে এবার বাড়তি ঘি ঢালছে এই ‘করমর্দন’ বিতর্ক।
ক্রিকেটীয় আইনে করমর্দন কোনো বাধ্যতামূলক কিছু নয়, তবে এটি এই ‘ভদ্রলোকের খেলা’র এক চিরন্তন ঐতিহ্য। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে এই দৃশ্যটিই যেন ডুমুরের ফুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপে তিনবার দেখা হলেও একবারও হাত মেলাতে দেখা যায়নি দুই দলের ক্রিকেটারদের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং নারী বিশ্বকাপেও দেখা গেছে একই দৃশ্য—ভারতীয় ক্রিকেটাররা এড়িয়ে গেছেন পাকিস্তানিদের। সেই রেশ কি এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা যাবে? এশিয়া কাপের ফাইনালের পর আজই আবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। মাঠের উত্তাপ ছাড়িয়ে আলোচনা এখন দুই দলের এই অলিখিত ‘দূরত্ব’ নিয়ে।
তবে এই হাত মেলানো নিয়ে হইচই পছন্দ করছেন না ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার হরভজন সিং। তাঁর মতে, ২২ গজে লড়াইটাই আসল, সৌজন্য সেখানে ঐচ্ছিক। হরভজন সোজাসাপটাই বললেন, ‘এটা পুরোপুরি খেলোয়াড়দের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কোনো বইয়ে লেখা নেই যে ম্যাচ শেষে হাত মেলাতে হবে বা আলিঙ্গন করতে হবে। স্রেফ মাঠে নামো এবং নিজেদের উজাড় করে খেলো।’
অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ম্যাচ শেষে একসঙ্গে আড্ডা দেন, সেই উদাহরণ টেনে ‘ভাজ্জি’ বলেন, ‘যদি মনে হয় যে ম্যাচের পর হাত মেলানো দরকার বা আলিঙ্গন করা উচিত…সেটা ঠিক আছে। যদি আমরা অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের কথা বলি, তাঁরা ম্যাচের পর একসঙ্গে বসেন। ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই দেখা উচিত।’
আজ কলম্বোর আকাশ যদি মেঘমুক্ত থাকে, তবে মাঠের লড়াই হবে দেখার মতো। তবে সেই লড়াইয়ের আগে-পরে ক্যামেরার লেন্স অবশ্যই খুঁজবে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানোর দৃশ্য। সেটা কি দেখা যাবে, না কি মাঠের বাইরের শত্রুতা মাঠেও এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখবে?