হাত মেলানো থেকে উসমান তারিক: ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে ৫ প্রশ্ন

ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট মাঠে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছে গত বছরের এশিয়া কাপেরয়টার্স

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশীর ম্যাচ সব সময়ই ‘হাই-ভোল্টেজ’ হলেও এবার তাতে বাড়তি ঝাঁজ আছে। বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দিয়েছিল। কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর শেষ পর্যন্ত রাজিও হয়েছে। বাইরের আলোচনা শেষে এখন সবার দৃষ্টি মাঠে।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিতে অন্তত ৫টি প্রশ্নে চোখ থাকবে দর্শকদের।

১. হাত মেলাবে তো দুই দল

এশিয়া কাপের ফাইনালেও দুই দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি
এএফপি

২০২৫ এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। কোনোটিতেই টসের সময় দুই দলের অধিনায়ক টসের সময় এবং ম্যাচের শেষে খেলোয়াড়েরা হাত মেলাননি। যা পরবর্তী সময়ে নারী বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও দেখা গেছে। আজও একই দৃশ্য দেখা যাবে কি না, কৌতূহল থাকবে অনেকেরই।

ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে, আজ মাঠে থাকবেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। তাঁদের একসঙ্গে খেলা দেখার দিনে মাঠে ক্রিকেটারদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন দেখা যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। গতকাল পাকিস্তান ও ভারত অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনেও এ ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সালমান আগা ও সূর্যকুমার যাদব—দুজনই বলেছেন ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। সেই অপেক্ষার অবসান হবে আজ টসের সময়। কয়েন মাটিতে পড়ার পর সালমান ও সূর্যকুমার কি একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবেন?

আরও পড়ুন

২. ফেবারিট কে?

দুদলের সর্বশেষ সাতটি ম্যাচই জিতেছে ভারত
এএফপি

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। আট ম্যাচে এখন পর্যন্ত সাতবার জিতেছে ভারত, যার মধ্যে আছে টাইয়ের পর বোলআউটে পাওয়া জয়টিও। তবে এবারের ভেন্যু কলম্বো বলে ভারতকে নিরঙ্কুশ ফেবারিট বলতে পারছেন না কেউ। বিশ্বকাপের পিচগুলো বেশ প্রাণবন্ত এবং ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে ব্যাটসম্যান, বোলার দুই পক্ষই ভালো সুবিধা পাচ্ছেন। ভারত যেমন তাদের প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে কিছুটা ভুগেছে, আবার নামিবিয়ার বিপক্ষেও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ ছিল না। আর পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ আর যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়ার চেয়ে অবশ্যই শক্তিশালী।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এম এস কে প্রসাদ ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ‘এটি একটি ৫০-৫০ ম্যাচ। আপনি কাউকেই এককভাবে ফেবারিট বলতে পারবেন না। কারণ, এটি তাদের (উপমহাদেশীয়) ঘরের মাঠের মতো। ভারত কত দ্রুত কন্ডিশন এবং মাঠের আয়তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।’

প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিন সহায়ক। এ ছাড়া এর স্কয়ার এবং স্ট্রেট বাউন্ডারিও অনেক বড়। এখানে গায়ের জোরের চেয়ে কৌশলী ব্যাটিং-বোলিংই বেশি কাজে দেবে। তার ওপর পাকিস্তান কন্ডিশনের সঙ্গে ভারতের চেয়ে বেশি পরিচিত। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সালমানরা এখানেই খেলছেন। বিপরীতে, শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার পর ভারত শুধু শনিবার সন্ধ্যায় অনুশীলন করেছে।

আরও পড়ুন

৩. কলম্বোতে আদর্শ স্কোর কত?

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম প্রস্তুত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের জন্য
প্রথম আলো

ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীবৎস গোস্বামী মনে করেন, ভারতের সব সময় আক্রমণাত্মক খেলার ধরন প্রেমাদাসায় কার্যকর না–ও হতে পারে। তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, এই পিচে কৌশলের প্রয়োজন, ‘এই ম্যাচে তারাই জিতবে, যারা উইকেটের মাঝে ভালো দৌড়াবে। এক এবং দুই রান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি ম্যাচ হবে, যেখানে বিরাট কোহলির মতো একটি ইনিংস দরকার—এক-দুই রান নিয়ে খেলা এগিয়ে নেওয়া এবং মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি।’

এই মতের সপক্ষে যুক্তিও আছে। এই ভেন্যুতে সর্বশেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৭০ রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে অলআউট হয়। পরে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, এই মাঠে ২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করাটা ঝুঁকিপূর্ণ, ‘১০ ওভারে ৭০ রান তুলে আমরা খুশি ছিলাম। ড্রেসিংরুমে কেউ একজন বলেছিল, ১৯০ করা সম্ভব, আমি বললাম না। আপনি যদি এখন ১৯০-এর দিকে তাকান, তবে ১৪০-এ অলআউট হয়ে যাবেন। শুধু ওভারে ৮-৯ করে তোলার চেষ্টা করুন এবং দেখুন কী হয়।’

আরও পড়ুন

৪. উসমান তারিক কি ফ্যাক্টর হবেন?

পাকিস্তানি স্পিনার উসমান তারিক
এএফপি

ভারতীয় দল পাকিস্তানের বেশির ভাগ স্পিনারের বিপক্ষে আগেই খেলেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ ভালো বল করলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে পাকিস্তানের পেসাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান বিলিয়েছিলেন। এবার পাকিস্তান কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।

হারিস রউফকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়নি। বিশেষজ্ঞ স্পিনার এবং স্পিন-অলরাউন্ডারদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতের কাছে একমাত্র অজানা নাম উসমান তারিক, যিনি অ্যাকশনের কারণে বর্তমানে বেশ আলোচিত। এ বিষয়ে শ্রীবৎস বলেন, ‘বোলারের লোডিং পয়েন্ট এবং রিলিজ পয়েন্টের ওপর আপনাকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। ব্যাপারটা সহজ হবে না। কারণ, তার রিলিজ পয়েন্টে বৈচিত্র্য আছে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আগে থেকে কিছু অনুমান করে খেলা উচিত হবে না। তিনি ব্যাক অফ লেংথে বল করেন এবং খুব বেশি বাউন্স পান না। তাই ব্যাটসম্যানরা কিছুটা নিচু হয়ে পজিশন নিতে পারেন, যাতে বলের নিচে গিয়ে শটগুলোতে উচ্চতা পাওয়া যায়।’

তবে এম এস কে প্রসাদ কোনো আতঙ্কের কারণ দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না উসমান তারিক কোনো সমস্যা হবে। এটা পিচের ওপর নির্ভর করবে। অন্যথায় দু-তিনটি বল খেলার পর তাকে অন্য যেকোনো সাধারণ স্পিনারের মতোই মোকাবিলা করা হবে।’

আরও পড়ুন

৫. ভারত বনাম পাকিস্তান: স্পিন ভালো খেলে কে?

ভারতীয়রা স্পিনে খুব ভালো
বিসিসিআই

দুই দলই স্পিনারে ঠাসা হওয়ায় মূল দায়িত্ব এখন ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। ভারত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গিয়ার পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তান কিছুটা নড়বড়ে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তারা হারতে হারতে জিতেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৯০ রান করলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না।
কুলদীপ যাদবের মতো রিস্ট স্পিনারদের বিপক্ষে পাকিস্তানের একধরনের দুর্বলতা রয়েছে। তার সঙ্গে আছেন বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল। আর যদি স্পিন কাজ না করে, তবে যশপ্রীত বুমরা তো আছেনই।

দীপ দাশগুপ্ত বলেন, ‘ইতিবাচক দিক হলো ভারতের অধিকাংশ ব্যাটসম্যান, যেমন সূর্য, তিলক, শিবম, হার্দিক ও রিংকুরা স্পিন ভালো খেলে। এমনকি ঈশানেরও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। চ্যালেঞ্জিং হলেও ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে।’

আরও পড়ুন