প্রতি ম্যাচের আগে রান–আপের দূরত্বটা ঠিক করে রাখেন পেসাররা। আজ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তা করার সময় শরীফুল ইসলামকে এক মাঠকর্মী বলেছিলেন ম্যাচে তিনি ৫ উইকেট পাবেন।
টি–টুয়েন্টিতে শরীফুল আগে কখনো ৫ উইকেট পাননি। সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়েই তাঁর ৫ উইকেট ছিল মাত্র একবার। শরীফুল তাই মাঠকর্মীর কথা মাথায় নেননি। কিন্তু বোলিং শুরুর পর দেখা গেল একের পর এক উইকেট পেতে শুরু করেছেন।
একপর্যায়ে দেখা মিলল পঞ্চম উইকেটেরও। শুধু উইকেটই নয়, শরীফুল নিজের সেরা বোলিংটাই করেছেন আজ। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ২৩ বল করে ১৮টিই দিয়েছেন ডট, বোলিং শেষ করেছেন ৯ রানেই ৫ উইকেট নিয়ে, যা টি–টুয়েন্টিতে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও।
চট্টগ্রামের ৫ উইকেটে জয়ের ম্যাচসেরার স্বীকৃতি উঠেছে শরীফুলের হাতেই। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি শুনিয়েছেন ম্যাচ শুরুর আগের সেই গল্প, ‘এক মাঠকর্মী ভাইয়া আমাকে বলেছিল, “কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি আজকে ৫ উইকেট পাবেন।” আমি বলেছি, ভাই, এটা তো এত সহজ না। কিন্তু আল্লাহ দিলে হতে পারে। যখন খেলছিলাম, ভালো বল করছিলাম। তবে আমি শেষ উইকেট পর্যন্ত চিন্তা করি নাই যে পাঁচ উইকেট পাব। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ হয়তো কপালে লিখে রেখেছিল, হয়ে গেছে।’
এই ম্যাচে শরীফুলের বোলিংয়ের সঙ্গে উদ্যাপনও অনেকের নজর কেড়েছে। নোয়াখালীর ব্যাটসম্যান হাসান ইশাখিল তাঁর বলে মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন। উইকেট পাওয়ার আনন্দে বোলার শরীফুলকে মাথার পেছনে হাত দিয়ে কোমর দুলিয়ে নাচতে দেখা গেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এমন নাচের পেছনের গল্পও জানিয়েছেন শরীফুল, ‘এ রকম উদ্যাপনের পরিকল্পনা ছিল না। আমি মাথায় হাত দিয়েছিলাম। নাঈম (মোহাম্মদ নাঈম) আমাকে এসে বলল, “দে দে ড্যান্স দে, ড্যান্স দে”। পরে ওইটা ঝোঁকে হয়ে গেছে আরকি। নাঈম আমার ভালো বন্ধু, আমরা একসঙ্গে অনূর্ধ্ব–১৯ থেকে খেলছি, তালে তালে হয়ে গেছে।’
৫ উইকেট পেয়ে ম্যাচসেরা হওয়ায় শরীফুলের ভিন্ন একটি কারণেও আনন্দিত, ‘আমি বলেছিলাম যে যত দিন ক্রিকেট খেলব, আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলে সেই টাকাটা আমাদের এলাকার যাঁরা একটু অভাব-অনটনে থাকে তাদেরকে দেব। সেদিক থেকে আমার খুবই ভালো লাগছে যে এই টাকাটা তাদের কাছে যাবে।’
আজকের ম্যাচের আগে বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন শরীফুল। তবে ৫ উইকেট যোগ হওয়ার পর ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে তিনি এখন সবার ওপরে। দুইয়ে আছেন এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৫ উইকেট পাওয়া নোয়াখালীর পেসার হাসান মাহমুদ।
টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত কি নিজের নামটা ওপরেই রাখতে পারবেন? উত্তরে শরীফুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৮ উইকেট পেয়েছি। পরের ম্যাচগুলোতে উইকেট না–ও পেতে পারি। আমার মনে হয় খেলতে থাকি, যদি হয় তো আলহামদুলিল্লাহ। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’