টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ
শেফার্ডের হ্যাটট্রিক থেকে নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি—গ্রুপ পর্বের সেরা ৫ পারফরম্যান্স
গ্রুপ পর্ব শেষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব। পাকিস্তান–নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাওয়া শেষ আটের লড়াইয়ের আগে গ্রুপ পর্বের লড়াই থেকে পাঁচটি সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বাছাই করেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি—
রোমারিও শেফার্ডের হ্যাটট্রিক
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র হ্যাটট্রিকের মালিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড। ৭ ফেব্রুয়ারি ইডেন গার্ডেনে ইনিংসের ১৭তম ওভারে স্কটল্যান্ডের তিন ব্যাটসম্যান ম্যাথু ক্রস, মাইকেল লিস্ক ও অলিভার ডেভিডসনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান তিনি।
সেই ওভারে শেফার্ড উইকেট নেন আরও একটি, ওভারের শেষ বলে ফেরান সাফিয়ান শরীফকে। তাঁর এক ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেটের কীর্তিতে সেদিন স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব মিলিয়ে ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন শেফার্ড।
অন্যরূপে সূর্যকুমার
উইকেটে এসে শুরু থেকেই ঝড় তোলার অভ্যাস সূর্যকুমার যাদবের। ব্যাটিং দেখে মনে হয়, বুঝি ড্রেসিংরুম থেকেই থিতু হয়ে এসেছেন! তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেই এই সূর্যকুমারকে দেখা গেছে অন্যরূপে।
৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত। ওই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক সূর্যকুমারের ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসটিই উদ্ধার করে দলকে। শেষ ওভারে সৌরভ নেত্রবালকারের ওভারে সূর্যকুমার তোলেন ২১ রান। ভারত শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬১ রান করে জিতেছে ম্যাচটি।
মুজারাবানির বীরত্ব
এবারের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের রূপকথার গল্প শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মধ্য দিয়ে। ১৩ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে জেতাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন এই পেসার।
কলম্বোর উইকেটের গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে নতুন বলে বিদায় করেন ওপেনার জশ ইংলিশ (৮) ও বিপজ্জনক টিম ডেভিডকে (০) বিদায় করেন। ইনিংসের ১৯তম ওভারে আউট করেন ৬৫ রান করা ম্যাট রেনশকে, একই ওভারে ফেরান অ্যাডাম জাম্পাকেও। ২৩ রানের এই জয়ের পরই সুপার এইটের স্বপ্নটা জীবন্ত হয়ে ওঠে জিম্বাবুয়ের সামনে। এখন তো সেটা বাস্তবই।
নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫২ বলে সেঞ্চুরি। সেটিও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে, ঘরের মাঠে। পাতুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিটি তাই এমনিতেই বিশেষ কিছু। তবে সেদিন নিশাঙ্কা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান করেছেন, সেটি তাঁর সেঞ্চুরিটিকে আরও বিশেষ বানিয়েছে।
নিশাঙ্কার এই সেঞ্চুরিতেই শ্রীলঙ্কা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের লক্ষ্য টপকে যায় ২ ওভার বাকি থাকতে। এই জয়ে সুপার এইটও নিশ্চিত হয় তাদের। নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াও।
সামরার রেকর্ড
বয়স মাত্র ১৯, আর এই বয়সেই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন কানাডার যুবরাজ সামরা। আইসিসির সহযোগী দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন এই বাঁহাতি।
এখানেই শেষ নয়, আহমেদ শেহজাদের রেকর্ড ভেঙে তিনি এখন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ানও। পেছনে ফেলেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিংকেও।
অর্থাৎ ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি—দুই ধরনের বিশ্বকাপ মিলিয়েই তিনি এখন কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান। সামরার ইনিংসটি (১১০) এখন পর্যন্ত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও।