বউ গালি দেবে ভেবেই মুমিনুলের সেঞ্চুরি না করতে পারার আক্ষেপ
সেঞ্চুরি পেলে ভালো, কিন্তু সেঞ্চুরি করতেই হবে—এমন কোনো প্রতীজ্ঞা নিয়ে মাঠে নামেন না মুমিনুল হক। নোমান আলীর নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লু হয়ে গেলেও তাই খুব বেশি দুঃখ হয়তো নেই তাঁর। তবে হ্যাঁ, মুমিনুল চেয়েছিলেন দিনটা শেষ করে আসতে, সেটা হয়নি।
দুঃখ নেই বলাটাও কি ঠিক হলো? টেস্টে ৮২, ৬৩, ৮৭ এবং আজ ৯১; টানা চার ইনিংসেই যে ষাটোর্ধ্ব রান করেও পৌঁছাতে পারেননি তিন অঙ্কে! কোথায় যেন আটকে যাচ্ছেন মুমিনুল!
মিরপুর টেস্টে আজ দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটা আসতেই একটু রসিক হয়ে উঠলেন টেস্ট ক্রিকেটে ১৩ সেঞ্চুরির মালিক, ‘এত দিন আক্ষেপ আছে মনে হয় নাই, আজকে হালকা মনে হয়েছিল। একটু, তা–ও বউয়ের কারণে। বউ হয়তো একটু গালি দিবে, এটাই।’
সংবাদ সম্মেলনে ছড়িয়ে পড়া হাসিটা থামার আগেই মুমিনুল আবার সিরিয়াস, ‘দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল। তবে আমার কাছে সেঞ্চুরির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রান করা, দলে অবদান রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
মুমিনুলের ‘মাইন্ডসেট’ একটাই—নিয়মিত রান করতে হবে। ২০১৮ সালের পর থেকে তাঁর পরিচয় শুধুই টেস্ট ক্রিকেটার। ওয়ানডে আর টি–টুয়েন্টিতে তিনি দর্শক। তার মানে তো বুঝতেই পারছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে হয় তাঁকে। খেলাটার প্রতি নিবেদন ধরে রাখতে নিজেকেই হতে হয় নিজের অনুপ্রেরণা।
মুমিনুলের ভাষায়, ‘আমি যেভাবে টেস্টের ব্যাটিংটা উপভোগ, সত্যি বলতে কি, শুধু এটাই চেষ্টা করি। খুব বেশি চিন্তাভাবনা করি না। আর কীভাবে রান করতে হয়, ওইটা মোটামুটি একটু জানা আছে তো; ওইভাবেই খেলার চেষ্টা করি। আমি আমার মাইন্ডসেট নিয়ে থাকার চেষ্টা করি। নিয়মিত রান করতে হবে, এটাই আমার মোটিভেশন। আমার যে পরিকল্পনা রুটিন থাকে, ওইভাবে কাজ করলে রান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
নাজমুল হোসেন তাঁর ১৪ ফিফটির ৯টিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন, যার শেষটি আজ অন্য প্রান্ত থেকে দেখেছেন মুমিনুল। অন্যদিকে মুমিনুল নিজে ১৩টি সেঞ্চুরি করলেও তাঁর সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ফিফটির সংখ্যা বেড়ে এখন ২৬। নাজমুলের মতো কেন ফিফটিগুলোকে সেঞ্চুরিতে নিতে পারছেন না, সে ব্যাপারে মুমিনুলের নিজস্ব একটা বিশ্লেষণ আছে, ‘আমি কোনো সময় ১০০ করব এই চিন্তায় খেলি না। হয়তো আমার আরেকটু চিন্তা করতে হবে। আমি চিন্তা করি আমাকে ৪ সেশন ৫ সেশন ব্যাটিং করতে হবে। ওইটাই হয়তো আরেকটু মনোযোগ দিয়ে করা লাগবে। পাঁচ সেশন ব্যাটিং করলে ১০০-১৫০ হয়ে যাবে। ওই জায়গাটাতে একটু শক্ত থাকতে হবে।’
মুমিনুল কথা বলেছেন কাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্যের কথাও, ‘কাল সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন বলে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে। সকালে যদি এক ঘণ্টা আমরা উইকেট না হারিয়ে খেলতে পারি, তবে আমার মনে হয় ৪০০-৪৫০ পার হয়ে যাবে। তবে এটা নির্ভর করছে আমাদের প্রথম এক ঘণ্টার ওপর। কারণ, এখন উইকেটে অনেক কিছু হচ্ছে।’
মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তান টসে জিতেও বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ভুল করেছে বলেই মনে হচ্ছে অনেকের। মুমিনুল যদিও বলেছেন, পাকিস্তান ভুল করেছে কি না তিনি জানেন না, তবে জানিয়েছেন, ‘আমরা টস জিতলে ব্যাটিংই নিতাম, সত্যি কথা। তবে ওরা উইকেট বুঝতে ভুল করেছে কি না, তা জানি না। আমি প্রতিপক্ষের বিষয়ে বলতে পারি না।’