ফিফটির চেয়ে সেঞ্চুরি বেশি, নাজমুলের জন্য করতালি
মুমিনুল হক তখন ফিফটি ছুঁয়েছেন, নাজমুল সেটা করে ফেলেছিলেন আগেই। দুজনের জুটিও ততক্ষণে এক শ ছাড়িয়ে গেছে। পেস, স্পিন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না—পাকিস্তান দল তখন যেন নিরুপায়!
মোহাম্মদ রিজওয়ান শর্ট লেগের ফিল্ডারকে একটু পিছিয়ে যেতে বললেন। নন–স্ট্রাইক প্রান্তে পপিং ক্রিজে টানা সাদা দাগের ওপর দাঁড়ালেন সেই ফিল্ডার। বোলাররা যেহেতু পারছেন না, ফিল্ডার সরিয়ে যদি বিভ্রান্ত করা যায় ব্যাটসম্যানকে, যদি একটি উইকেট মেলে!
কিন্তু তা হয়নি। অন্তত নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরির আগে তো নয়ই। ম্যাচের ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ক্রিজে আসতে হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ককে। বাংলাদেশ তখন ৩১ রানে হারিয়েছে ২ উইকেট। উইকেটে ঘাস আছে, পাকিস্তানের পেসাররা ভয় ধরাতে পারেন—আছে এমন শঙ্কাও।
তবে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ততটাও কঠিন ছিল না। সময় যত যায়, নাজমুলকে দেখেও মনে হলো ব্যাটিং করা কত সহজ! অন ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ কিংবা পুল—সবকিছুতে স্বচ্ছন্দ। প্রয়োজনে আবার নিখাদ ডিফেন্সিভ ব্যাটসম্যানও!
সেঞ্চুরির পর ব্যাটে চুমু এঁকে চেনা উদ্যাপন শেষ করার পরের বলেই নাজমুল আউট হলেন এলবিডব্লুর শিকার হয়ে। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। নিজের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে নাজমুল যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, তখন তাঁকে দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন নিখাদ ব্যাটিং যে সরাচর দেখা যায় না।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নাজমুল শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে যে বাউন্ডারির ঝড় শুরু হয়েছিল, সেটির শেষও হয়েছে তাঁর বলে এসেই। আউট হওয়ার আগের বলেই অবশ্য তাঁকেই বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরিটা তুলে নেন।
মুমিনুল হক উইকেটে এসেছিলেন নাজমুলেরও আগে। কিন্তু মুমিনুলের আগেই ৭১ বলে ফিফটি পান নাজমুল। একপ্রান্ত থেকে তাঁর দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের কারণে অন্য প্রান্তে মুমিনুলও খেলতে পারেন তাঁর মতো করে। ফিফটি তুলে নেন ১০২ বলে।
পাকিস্তানের তিন পেসার আব্বাস, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী—কাউকেই থিতু হতে দেননি নাজমুল। বাউন্সারে পুল করেছেন, অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার কিংবা পয়েন্ট দিয়ে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। তাতে ফিল্ডারদের দ্রুত মাঠে ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। এতে নাজমুলের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাও হয়েছে আরও পরিশীলিত।
পেসাররা মুমিনুল–নাজমুলের জুটি ভাঙতে না পারায় সালমান আগাকে দিয়ে যে ওভারে স্পিন শুরু করেছিল পাকিস্তান, ওই ওভারেই ছক্কা মারেন নাজমুল। ৭১ বলের ফিফটির পর সেঞ্চুরি পেতে খেলেন মাত্র ৫৮ বল। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার অভ্যাসের কারণে নাজমুল কিন্তু আলাদা করে বড় একটা বাহবা পেতেই পারেন। টেস্টে ফিফটির চেয়ে তাঁর সেঞ্চুরিসংখ্যা যে বেশি!
যে ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছেন এই সংস্করণে, তার মধ্যে ৯টিতেই সেঞ্চুরি করলেন (ফিফটি ৫টি)। শেষ ৮ ইনিংসেই সেঞ্চুরি ৪টি। হয়তো বাকিগুলোর চেয়ে এটা একটু বিশেষও—দুর্দান্তভাবে চাপ কাটিয়ে প্রতিপক্ষকে উল্টো চাপে ফেলেছেন, সচল রেখেছেন রানের চাকাও এবং মুমিনুলের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটিতে এক দিন আগেই প্রথম ইনিংসে দলীয় চার শ রান করার প্রতিশ্রুতিরও পথ করে দিয়েছেন।
সেঞ্চুরির পরপরই আউট হয়ে যাওয়ার হতাশা ভুলে নাজমুলের জন্য তাই শুধু করতালিই প্রাপ্য।