পারল না বাংলাদেশ, ৪০ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে হার

ভালো বোলিং করে ভারত অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে বেশি রান করতে দেয়নি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলআইসিসি

বৃষ্টি এসে বাধা দিল তিনবার। টসের আগে একবার, ভারত ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংসে একবার করে। বহুপ্রতীক্ষিত নয়, বাংলাদেশের যুবাদের জন্য শেষ পর্যন্ত ‘সন্ত্রাস’ হিসেবেই এসেই বৃষ্টি। শেষবার বৃষ্টি নামার পরেই যে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচে হারত হয়েছে।

বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ভারত আগে ব্যাট করে ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রানে অলআউট হয়। ৪৯ ওভারে ম্যাচে তাড়া করতে নেমে ১৭.২ ওভারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সংগ্রহ যখন ২ উইকেটে ৯০, তখন আবারও বৃষ্টির হানা। তাতে কাটা হয় ওভার এবং পরিবর্তিত নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫। অর্থাৎ হাতে থাকা ১১.৪ ওভারে (৭০ বল) ৭৫ রান লাগত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। ক্রিজে তখন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম এবং কালাম সিদ্দিকী। হাতে ৮ উইকেট থাকায় কাজটা অবশ্যই কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে বাংলাদেশ।

আজিজুল ও কালাম ২০ ওভার পার করার পর দরকার ছিল ৫৪ বলে ৬৩। ২ উইকেটে ১০২ রান তোলা বাংলাদেশের যুবারা তখন ডিএলস নিয়মে এগিয়ে ১৪ রানে। যার মানে খেলা তখনই থেমে গেলে বাংলাদেশই জিতে যায়। কিন্তু আর বৃষ্টি এলো না। আর বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু হলো আসা-যাওয়ার মিছিল। ২১.২ ওভারে কালামের আউট হওয়ার পরে ৭.৩ ওভারে ৪০ রান তুলতে বাকি ৮ উইকেট হারাল বাংলাদেশের যুবারা।

৫১ রান করেন আজিজুল
আইসিসি

উইকেটের পতনগুলো রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ২৪তম ওভার শেষেও জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ বলে ৪০—হাতে ৬ উইকেট। ৫১ রানে ব্যাট করা অধিনায়ক আজিজুল টিকে ছিলেন আশার প্রতীক হয়ে। কিন্তু ২৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আজিজুল আউট হওয়ার পরই ঘুরে যেতে শুরু করে ম্যাচের পাল্লা। ওই ওভার শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোর ৫ উইকেটে ১২৯। পরের তিন ওভারে ১৭ রানে পড়ে আরও ৪ উইকেট। এর মধ্যে ২৮তম ওভারে প্রথম ৩ বলের মধ্যে ফেরেন আল ফাহাদ ও রিজান হোসেন। বৃষ্টিতে লক্ষ্য পাল্টে যাওয়ার পরও যে ম্যাচে জয় দেখছিল বাংলাদেশ, মাত্র ৪৩ বলের মধ্যে সেটা পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।

আরও পড়ুন

খুব ভালো বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন, তা নয় মোটেও। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন আজিজুল, সামিউন বাসিররা। ডাইভ দিলে রানআউট হতেন না আল ফাহাদ। ৪ ওভারে ১৪ রানে ৪ উইকেট ভারতের বিহান মালহোত্রার।

টসের সময় হাত মেলাননি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার ও ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে। নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল তখন একটু অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের হয়ে টসে ছিলেন জাওয়াদ। গতকাল রাত ৮টার দিকে পাঠানো বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে বলা হয়, ‘বিসিবি স্পষ্ট করতে চায় যে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করাটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তা সাময়িক অসাবধানতার ফল। প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ধরনের অশোভনতা বা অসম্মান প্রদর্শনের কোনো অভিপ্রায় এতে ছিল না।’ ম্যাচ শেষে হাত মিলিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দুদলের খেলোয়াড়েরা।

জয়ের পর ভারত অনূর্ধ্ব–১৯ দলের উদ্‌যাপন
আইসিসি

ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংস এগিয়েছে দুজনের ব্যাটে—বৈভব সূর্যবংশী ও অভিজ্ঞান কুণ্ডু। ৬৭ বলে ৭২ করেন সূর্যবংশী। এই ইনিংসে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ফিফটির রেকর্ড গড়েন ১৪ বছর ২৯৬ দিন বয়সী সূর্যবংশী। তাঁর আউটের পর ভারতের ইনিংস টেনেছেন ১১২ বলে ৮০ রান করা কুণ্ডু। বাংলাদেশের হয়ে ৩৮ রানে ৫ উইকেট নেন পেসার আল ফাহাদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ (কুণ্ডু ৮০, সূর্যবংশী ৭২, ; ফাহাদ ৫/৩৮, ইকবাল ২/৪৫, আজিজুল ২/৪২)

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ (আজিজুল ৫১, রিফাত ৩৭ ; বিহান ৪/১৪, খিলান ২/৩৫)

ফল: ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১৮ রানে জয়ী (ডিএলএস।

ম্যাচসেরা: বিহান মালহোত্রা।

আরও পড়ুন