দ্বিতীয় দিন শেষে
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ১১০/৩
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ‘লিটন দাস’ কে? না, মানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কেউ কি এমন কিছু করেছেন, যাকে ঘিরেই বলা যায় একটা দিনের গল্প! না, তেমন কেউ নেই। টেস্টের দ্বিতীয় দিনের গল্পটা সবার। আরও স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশের বোলারদের।
তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম থেকে শুরু থেকে নাহিদ রানা, মেহেদী হাসান মিরাজ—টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ভালো করেছেন সবাই। সেটিরই ফলই ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে অলআউট।
বোলারদের ‘দশে মিলে করি কাজ’ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৬ রানের লিড। এর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো করতে হতো। দিনের শেষ ওভারে মুমিনুল হক আউট না হলে বাংলাদেশের মুখের হাসিটা আরও চওড়া হতো। তা না হওয়ায় একটু আক্ষেপ থাকতেই পারে।
তবে সব মিলিয়ে এই টেস্টের প্রথম দুই দিন কিন্তু বাংলাদেশের জন্য আনন্দই বয়ে এনেছে। মাহমুদুল হাসানের ফিফটিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১১০ রানে। লিড এখন ১৫৬ রানের।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাঝেমধ্যেই বড় টার্ন পেয়েছেন স্পিনাররা। এরপরও উইকেটকে খারাপ বলার সুযোগ নেই এখনো। কারণ, ব্যাটসম্যানরা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছেন। সে হিসাবে কালও উইকেট খুব বেশি খারাপ হওয়ার কথা নয়। লিডটা তাই বাড়িয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ নাজমুলদের সামনে।
এ জন্য সবার আগে কাল সকালটা ভালোয় ভালোয় কাটাতে হবে। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুলের ওপরই থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।
আজ সকালে পাকিস্তান যা পারেনি, এর মূল কারণ তাসকিনকে সামলাতে না পারা। তাসকিন এদিন নিজের প্রথম দুই ওভারেই আউট করেছেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইজকে।
২৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম ৩৮ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েছিলেন। তখন মনে হয়েছিল, তাসকিনের দেওয়া ধাক্কাটা হয়তো সামলে নিয়েছে পাকিস্তান। তবে এরপরই মিরাজের জোড়া আঘাত! শুরুতে ফেরান ২১ রান করা শান মাসুদকে, এরপর ৮ রান করা সৌদ শাকিলকে।
৪ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন বাবর ও সালমান আগা। বাবর করেন ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি। সালমানও তাঁকে যোগ্য সঙ্গই দিচ্ছিলেন, তবে ৬৮ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। বাবর আজমের বিপক্ষে চার ইনিংসে বোলিং করে তিন ইনিংসেই তাঁকে আউট করলেন নাহিদ।
তাসকিন–মিরাজ–নাহিদ রানারা আসল কাজটা করার পর কাজে নামেন তাইজুলও। সালমান, রিজওয়ান ও হাসান আলীকে আউট করে বাংলাদেশের লিড নেওয়া প্রায় নিশ্চিত করে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
এরপর টেলএন্ডারদের উড়িয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন নাহিদ রানা। আউট করেছেন খুররম শেহজাদ ও সাজিদ খানকে। সাজিদের ৩৮ রানের ইনিংসে অবশ্য পাকিস্তান কিছুটা ব্যবধান কমিয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনার তানজিদ ৪ রান করে আউট হয়ে গেলেও দাঁড়িয়ে গেছেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা এই ব্যাটসম্যান দারুণ কিছু স্ট্রোক খেলেছেন। ফিফটি করেছেন ৫৮ বলে, টেস্ট ক্যারিয়ারে যা তাঁর ষষ্ঠ ফিফটি। ৫২ রানে মাহমুদুল আউট হওয়ার পর জুটি গড়েন মুমিনুল ও নাজমুল।
দিনটা সাবধানে পার করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল তাঁদের। তাতে প্রায় সফলও হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর পারেননি। শেহজাদের করা দিনের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে মুমিনুল উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ৩০ রানে। এই আউটেই দিনের খেলা শেষ। নতুন দিনে তাই নাজমুলকে খেলতে হবে নতুন সঙ্গীকে নিয়ে।
তবে হাতে ৭ উইকেট নিয়ে ১৫৬ রানের লিড তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশকে।