টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রথমবার হয় ২০০৭ সালে। প্রথম সেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দক্ষিণ আফ্রিকা, চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পরের আসর বসে ২০০৯ সালে, ইংল্যান্ডে। সে আসরে শিরোপা জেতে পাকিস্তান।

২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয় ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে, চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের এই ছোট সংস্করণের পরের বিশ্বকাপ হয় শ্রীলঙ্কায়। নিজেদের দেশে হওয়া সে টুর্নামেন্টেই প্রথম স্বাগতিক দেশ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল লঙ্কানদের সামনে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ফাইনালে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর। যেখানে শিরোপা ঘরে তোলে ২০১২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল শ্রীলঙ্কা। ২০১৬ সালে ভারতে হওয়া টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল ভারত। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে যে টুর্নামেন্ট হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আরব আমিরাতে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া।

এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকেও। ১৯৮৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানে। এশিয়ার মাটিতে হওয়া যে আসরে প্রথমবার শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। এর পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ায় ১৯৯২ সালে, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় হয় সে বিশ্বকাপ। এশিয়ার মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বিশ্বকাপেই প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। কাল নেদারল্যান্ডসকে হারালেও সেমিফাইনালে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। অঙ্কের মারপ্যাঁচে পাকিস্তানের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে যা খুবই কঠিন।

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবেই শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৯ রানের হারে রানরেটে পিছিয়ে পড়ে তারা। বড় ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই মূলত গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল। গ্রুপ ১–এ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের পয়েন্ট সমান ৭ হলেও রানরেটে এগিয়ে থেকে শেষ চারে উঠেছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।

প্রথম ম্যাচে হার ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ার সামনে সুযোগ ছিল শেষ চারে খেলার। সে ক্ষেত্রে  শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে  জয়ের ব্যবধানটা বাড়াতে হতো তাদের।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনামূলক বড় ব্যবধানে জিতলেও আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কাজটা করতে পারেনি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ রানেই ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পরও ১৩৭ রান করে ফেলে আইরিশরা। সর্বশেষ আফগানিস্তান ম্যাচে ১০৩ রানেই ৬ উইকেট হারায় মোহাম্মদ নবীর দল। সেখান থেকে আফগানিস্তান স্কোরবোর্ড তোলে ১৬৪ রানে। রানরেটের এই হিসাব–নিকাশই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে।