বিপিএলে ফিক্সিং: অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারের কী হলো

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালবিসিবি

বিপিএলের সর্বশেষ আসরে ফিক্সিংয়ের দায়ে এরই মধ্যে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে তিনজনকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন বিসিবির এক সাবেক পরিচালকও। এর আগে গত মে মাসে আচরণবিধির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক মিলিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিসিবি।

তবে জানা যাচ্ছিল না বিপিএলের ১১তম আসরে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত। বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের সুপারিশেই বিপিএলের ১২তম আসরে অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারকে নিলামে রাখেনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। কিন্তু এরপর তাঁদের ব্যাপারে আর কিছু জানায়নি বিসিবি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বা ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। বিপিএলের ওই আসরে না খেললেও তাঁরা খেলছেন ঘরোয়া অন্যান্য ক্রিকেটে, একজন ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলেও।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। অস্পষ্টতা বিসিবির আইনজীবি ও ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানের কথায়ও, ‘তারা দোষীও নয়, আবার নির্দোষও নয়।’

আরও পড়ুন

তবে পরে আরেক প্রশ্নের জবাবে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, ‘১২তম বিপিএলের ড্রাফটের কয়েক দিন আগে আমাকে ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে অনেক মানুষের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য ছিল। বিদেশি খেলোয়াড়, স্থানীয় খেলোয়াড়, খেলোয়াড় নন—ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও। আমি তখনকার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, আমাদের হাতে যে তথ্য এসেছে, আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় এই বিপিএলে তাঁদের আমন্ত্রণ না জানানোই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

মার্শালের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদেরকে ওই বিপিএলের জন্য ‘হুমকি’ মনে হয়েছিল তাঁর। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ছিল না। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে কি না, এই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি মার্শাল।

আরও পড়ুন

ফিক্সিং তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিয়ে মার্শাল জানান, এসব তদন্ত সাধারণত তিনভাবে শেষ হতে পারে। হয় তাতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ থাকে, যার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করা হয়; অথবা অভিযোগ করার মতো যথেষ্ট শক্ত প্রমাণ থাকে না, তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই ব্যক্তিদের নজরদারিতে ও পর্যালোচনায় রাখা হয়; কিংবা কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগটি বাতিল বা খারিজ করে দেওয়া হয়।

১২তম বিপিএলের নিলামে না থাকা ওই ৯ ক্রিকেটারের তদন্ত এই তিন শ্রেণির কোনটিতে পড়েছে, এমন প্রশ্নে মার্শাল জানান, শুধু বিপিএলের সর্বশেষ আসরের জন্যই ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়েছিল তাঁদেরকে। এখন আর তাঁদের বিপিএলে খেলতে বাধা নেই।

এদিকে দুই ধাপে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ৮ জনের অনেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্শাল। আগামী কয়েক সপ্তাহে এমন আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান।

আরও পড়ুন