জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল, সেখানে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। আজও যখন ক্রিজে আসেন, প্রথম ওভারেই টেম্বা বাভুমাকে হারিয়ে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লেতে দুই বাঁহাতির সামনে সাকিব আল হাসান আসেননি, এনেছিলেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে। পঞ্চম ওভারে মিরাজকে সুইপ করে দুটি ছক্কা মারেন, এরপর মোসাদ্দেক হোসেন ও সাকিবের ওপরও চড়াও হন।

মাঝের ওভারগুলোতে কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে জুটিতে দাঁড়াতে দেননি বাংলাদেশ বোলারদের। স্পিনারদের ওপর চড়াও হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল আগে থেকেই।
স্পিনের বিপক্ষে এমন খেলতে রুশোর কাজে দিয়েছে উপমহাদেশের অভিজ্ঞতা, ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন তিনি, ‘আমার মনে হয়, এটি প্রমাণ করেছি আমি। কারণ, উপমহাদেশে অনেক খেলেছি আমি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এমনকি দুবাইয়ে। গত কয়েক বছরে আমার খেলার উন্নতি হয়েছে। এখন আমি আরও বেশি স্বচ্ছন্দ আগের চেয়ে।’

বিপিএলের অভিজ্ঞতা আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালোভাবেই কাজে দিয়েছে, রুশো জানিয়েছেন সেটিও, ‘অবশ্যই সহায়তা করেছে। কয়বার খেলেছি? তিনবার। যদি ঠিকঠাক মনে করতে পারি, দুবার আমি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলাম। এদের অনেকের সঙ্গে ও বিপক্ষে অনেক খেলেছি আমি। ফলে (তাদের বিপক্ষে) কী আসছে, সেটি একেবারে অজানা ছিল না আমার। আমি বলব, অবশ্যই আজকের ম্যাচে সহায়তা করেছে।’

বিপিএলের অভিজ্ঞতা রুশোকে এমন ইনিংসে সহায়তা করতেই পারে, মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও, ‘অবশ্যই থাকতে পারে। অস্বাভাবিক কিছু না। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতেই পারে। এটা আসলে ও–ই ভালো বলতে পারবে কেন ও ভালো করেছে। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, ও অনেক ক্ষুধার্ত ছিল ভালো করার জন্য। যেহেতু অনেক দিন পর এসেছে, ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে। ওর দেশের হয়ে খেলার একটা গর্ব আছে, সেটা ও ১০০ করার পর যে উদ্‌যাপন করেছে, সেটাতেও দেখা গেছে। কৃতিত্ব ওকে অবশ্যই দিতে হয় যেভাবে ও ব্যাট করেছে, আমাদের কোনো সুযোগই দেয়নি, যেটা আমরা বলতে পারতাম, ও রকম কিছু হলে হয়তো অন্য রকম হতো। সম্ভবত একটা হাফ চান্সের মতো ছিল (শুধু)।’

বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ডি ককের সঙ্গে রুশোর ওই জুটিই ছিটকে দিয়েছে, মনে করেন সাকিব, ‘কিছু ব্যাটসম্যানের জন্য আমাদের কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। রাইলির জন্যও ছিল। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের। তবে ইনিংসের ওই পর্যায়ে যেসব বলতে করতে চেয়েছিলাম, সেগুলো করা হয়নি। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে। একবার যদি ব্যাটসম্যান থিতু হয়ে যায় টি-টোয়েন্টিতে, তাহলে সে কেমন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা আমরা জানি। আজ সেটিই দেখিয়েছে। এখনো ম্যাচের দিকে সেভাবে ফিরে তাকানোর সুযোগ পাইনি। তবে রাইলি ও ডি কককে কৃতিত্ব দিতে হবে, ওরাই আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।’