হৃদয় কেন ওপেনার, জাতীয় দলে কোথায় খেলবেন

সেঞ্চুরির পর হৃদয়ের উদযাপনশামসুল হক

বিপিএলের শুরুটা তাওহিদ হৃদয়ের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রথম ৬ ম্যাচে রান মাত্র ১০৬, স্ট্রাইক রেটটাও বড্ড সাদামাটা—১০৯.২৭। ব্যাটে যেন মরচে ধরেছিল! হৃদয়ের এই অফ ফর্মের ‘ওষুধ’ হিসেবে তাঁকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর রাইডার্স। দলের প্রয়োজনে রাজি হয়ে যান হৃদয়ও।

আর তাতেই যেন ম্যাজিক! ওপেনার হিসেবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে নেমেই ৫৬ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। এরপর আরও একটি ফিফটি, আর আজ তো নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ম্যাচই জিতিয়ে ফিরলেন। এখন ১০ ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৭৮ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তিনি।

আরও পড়ুন

তবে প্রশ্ন হলো, বিপিএলে রানের ফোয়ারা ছোটালেও জাতীয় দলে তাঁর জায়গা কোথায়? হৃদয় তো আদতে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। সামনে বিশ্বকাপ, সেখানেও তাঁকে দেখা যাবে ওই ভূমিকাতেই। তাই রংপুর সতীর্থ ও জাতীয় দলের টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস তাঁকে একটু ভিন্ন পরামর্শই দিয়েছিলেন।

ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে হৃদয়
প্রথম আলো

মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে আজ সেই আলাপটাই শোনালেন হৃদয়, ‘আমাকে (লিটন দাস) যেটা বলেছে, যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তুই বিশ্বকাপে তো মিডল অর্ডারেই খেলবি। চেষ্টা কর, মিডল অর্ডারে খেললে তোর জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি হবে। কারণ, মিডলে খেলাটা একটু অন্য রকম খেলা। মিডলের খেলা এত সহজও না।’

হৃদয়ও বুঝেছেন বিষয়টা। রান করার তাড়না তাঁকে ওপেনিংয়ে টেনে নিলেও মাথায় ছিল মিডল অর্ডারের দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, ‘মিডল অর্ডারে আবার আপনারা তো শুধু মনে করেন ফিফটি, এগুলোই শুধু রান। ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও মিডলে করা হয়। আমাকে এটাই বলেছে। আমিও চেষ্টা করেছি ওভাবে খেলতে। এই টুর্নামেন্টের শুরুটা মনে হয় তিন–চারেই করেছিলাম। পরে দলের সিদ্ধান্তে ওপেনিংয়ে নেমেছি।’

১০ ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৭৮ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হৃদয়
প্রথম আলো

তাঁকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কাজে দিয়েছে রংপুরের জন্যও। শেষ দল হিসেবে তারা প্লে–অফ নিশ্চিত করেছে। জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্ম এবারের বিপিএলে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। তানজিদ হাসান ১০ ম্যাচে করেছেন মাত্র একটি ফিফটি। পারভেজ হোসেন রান করেছেন, তবে বেশির ভাগই চারে নেমে। ওপেনিংয়ে ভাবনায় থাকা লিটন দাস ও সাইফ হাসানও পুরো টুর্নামেন্টে একটি ফিফটিও করতে পারেননি।

আরও পড়ুন

তবে বিপিএলে ভালো করলেও জাতীয় দলে ওপেনিংয়ে নামার ভাবনা নেই হৃদয়ের। তাঁর অনুরোধ, এত দিন ধরে খেলে আসা ওপেনারদের ওপরই আস্থা রাখা হোক। হৃদয়ের ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয়, আপনারা খুব তাড়াতাড়ি একজনকে অনেক ওপরে তোলেন, আবার একজনকে অনেক নিচে খুব তাড়াতাড়ি নামান। খেলোয়াড়দের দিক থেকে আমি অনুরোধ করব যে আপনারাও একটু ধৈর্য ধরবেন। শেষ একটা বছর ওরাও সবাই ভালো পারফর্ম করেছে এবং একটা সিরিজেও ভালো করেছে।’