মিরাজ বলছেন, ‘সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজটা বাংলাদেশ জিতেছিল ২–১ ব্যবধানে। তিন ম্যাচেই ছিল একই একাদশ। সিরিজ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, সবাইকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতেই তাদের এমন সিদ্ধান্ত।
সিরিজটির প্রথম দুই ম্যাচে ৩ ও ১২ রানে আউট হওয়া সাইফ শেষ ম্যাচেও সুযোগ পেয়ে খেলেছিলেন ৩৬ রানের ইনিংস, তানজিদ হাসানের সঙ্গে গড়েছিলেন শতরানের উদ্বোধনী জুটিও। নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাইফ। তিনি যে কিউইদের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন, সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক।
আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, একজন খেলোয়াড়কে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার মতে একজন ব্যাটসম্যানকে এক–দুই ম্যাচ খেলানো যথেষ্ট নয়। যদি তিন থেকে চারটা ম্যাচ খেলে একই জায়গায়, তখন সে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে যে আমি পারফর্ম করতে পারিনি।
অধিনায়ক হিসেবে নিজের চাওয়াটাও জানিয়ে রেখেছেন মিরাজ, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি চাই একজন ব্যাটসম্যানকে যেন তার জায়গায় পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। সে যেন নিজের বিষয়টা বুঝতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে আমার পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি ব্যাটসম্যান যেন একই সুযোগ পায়।’
কাউকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার এই ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু যাঁরা একাদশের বাইরে আছেন, তাদেরও তো পরখ করে দেখতে হবে। বিশ্বকাপের আর বছর দেড়েক বাকি, এই সময়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিতের বিষয়ও আছে। পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া ও বাকিদের পরখ করে দেখার এই ভারসাম্যটা কীভাবে করবে দল? মিরাজ উত্তরে বলেছেন, ‘প্রতিটি ক্রিকেটারই সুযোগ পাবে। কারণ, আমাদের একটা সিরিজ না, বিশ্বকাপের আগে অনেক ম্যাচ আছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি প্রতিটা খেলোয়াড়ই তার জায়গায় সুযোগ পাবে।’
তেমন সুযোগের অপেক্ষায় আছেন সৌম্য সরকারও। এই ওপেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৫ ও শেষ ম্যাচে ৯১ রানের ইনিংস এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে।
অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের কোনোটিতেই একাদশে ছিলেন না তিনি।
শুধু সুযোগ দেওয়া নয়, ক্রিকেটারদের ফর্মে থাকা ও উপযুক্ত সময়ে খেলার সুযোগ পাবে কি না, এই প্রশ্নও তা–ই থেকে যায়। এ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মিরাজ, ‘একটা ব্যাটসম্যান ফর্মে থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শেষ যে সিরিজটা খেলেছি, সেখানে একশ রানের উদ্বোধনী জুটি ছিল। এটাও আমাদের দলের জন্য একটা অ্যাডভান্টেজ ছিল। যদি শুরুতেই উইকেট পড়ে যায়, একটা দলের অনেক চাপ চলে আসে। আমরা হয়তো অনেক সময় হিসাব করি যে অনেক বড় স্কোর করেছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ১০–২০–২৫ রানও অনেক প্রভাব রাখতে পারে।’
আগামীকাল মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।