পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শরীফের ভিসা নিয়ে আইসিসিতে তাকিয়ে স্কটল্যান্ড

স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটার সাফিয়ান শরীফআইসিসি

নিরাপত্তাশঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি। এ কারণে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থা ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকে আশস্ত করেছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাদের খেলোয়াড়দের ভারতের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে ‘খুব খুব কঠোর’ভাবে কাজ করা হচ্ছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার সাফিয়ান শরীফও আছেন তাঁদের মধ্যে।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের শেষ মুহূর্তের সরে দাঁড়ানোর সুফল পায় স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন না করা দলগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেয়। গতকাল বিকেলে স্কটল্যান্ড ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে। সাফিয়ান শরীফও আছেন তাঁদের মধ্যে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দলের।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানি নাগরিক কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে নিয়মিতভাবেই বিলম্ব হচ্ছে—এর প্রভাব পড়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও।

তবে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড সাফিয়ান শরীফের সময়মতো ভিসা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। পাকিস্তানি বাবা ও ব্রিটিশ–পাকিস্তানি মায়ের ঘরে হাডার্সফিল্ডে জন্ম নেওয়া শরীফ সাত বছর বয়সে স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান। কলকাতায় ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই তাঁর ভিসা মেলার আশায় আছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড।

আরও পড়ুন

ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড গতকাল সোমবার বলেন, ‘আমরা সবাই আইসিসির সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন এটি করা সম্ভব হয়। ভিসার বিষয়টা সব সময়ই কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে এবং সময় সীমা—তিন দিন হোক বা ৪৫ দিন, তাতে কোনো প্রভাব পড়ে না।’

ট্রুড লিন্ডব্লেন্ড আরও বলেন, ‘(আইসিসি) আমাদের কেবল সেই বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা দিতে পারে, যেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, আর অবশ্যই যেসব বিষয় তারা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি এবং স্পষ্টতই তারা সেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিসিসিআইর সঙ্গে কাজ করছে, যাতে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পেতে পারি।’

স্কটল্যান্ড দুজন ট্রাভেলিং রিজার্ভ এবং তিনজন নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভের জন্যও ভিসার আবেদন করবে, যাতে ভিসা নিয়ে কোনো বিলম্ব হলেও তারা পূর্ণশক্তির দল খেলাতে পারে। দলের পারফরম্যান্স প্রধান স্টিভ স্নেল জানিয়েছেন, তাড়াহুড়া করে নেওয়া তাদের এই প্রস্তুতিতে ‘অসাধারণ’ সহায়তা করেছে আইসিসি।

হঠাৎ করেই ডাক পাওয়ায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি স্কটল্যান্ড
আইসিসি

স্নেল আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিসিসিআই থেকে কিছু সহায়তা পাবো। ভাবুন তো—স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারপরও তারা সেখানে পৌঁছাতে না পারলে সেটা কারোর জন্যই ভালো ছাপ ফেলবে না।’

আরও পড়ুন

২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর স্কটল্যান্ডের স্কোয়াডে তিনটি পরিবর্তন এসেছে। সেবারের টুর্নামেন্টে তারা সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ১৯ বছর বয়সী পেসার জাইনুল্লাহ ইহসান প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন স্কটল্যান্ড দলে। পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলেন টম ব্রুস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ১৭টি টি–টোয়েন্টি খেলেছেন। গত বছর জাতীয়তা পাল্টানোর পর স্কটল্যান্ডের হয়ে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক হয়।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড স্কোয়াড: রিচি বেরিংটন (অধিনায়ক), টম ব্রুস, ম্যাথু ক্রস, ব্র্যাড কারি,ওলি ডেভিডসন, ক্রিস গ্রিভস, জাইনুল্লাহ ইহসান, মাইকেল জোন্স, মাইকেল লিস্ক,ফিনলে ম্যাকক্রিথ, ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন, জর্জ মানসি, সাফিয়ান শরীফ, মার্ক ওয়াট, ব্র্যাড হুইল। ট্রাভেলিং রিজার্ভ: জ্যাসপার ডেভিডসন, জ্যাক জার্ভিস। নন–ট্রাভেলিং রিজার্ভ: ম্যাককেঞ্জি জোন্স, ক্রিস ম্যাকব্রাইড ও চার্লি টিয়ার।

ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্কোয়াড নির্বাচন সব খেলোয়াড় ও স্টাফের ভিসা অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। খুব অল্প সময় পাওয়ায় এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের অল্প সময়সীমা বিবেচনা করে দুজন ট্রাভেলিং রিজার্ভ এবং আরও তিনজন নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভ নির্বাচিত করা হয়েছে।’

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ।