বিপিএলে বিদেশিরা কেমন করছেন, কেউ কি ছাপ রাখতে পারলেন
বিপিএলে কাল পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ২৪টি। ৬ দল মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন ৪০ জন বিদেশি ক্রিকেটার। লিগের অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দেওয়া হয়ে গেছে, তাই একটা প্রশ্ন এখন তোলা যেতেই পারে—বিদেশিরা কি আদতে কোনো ছাপ ফেলতে পারছেন? নাকি তাঁরা শুধু আসছেন আর যাচ্ছেন?
কিছু পরিসংখ্যান দেখলে উত্তরটা পাওয়া সহজ হবে। এখন পর্যন্ত বিপিএলের শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায় বিদেশি মাত্র চারজন। উইকেটের হিসাবে বোলারদের সেরা দশের তালিকায় সেই সংখ্যাটা আরও কম, বিদেশি তিনজন! এর পেছনে অবশ্য বিদেশি ক্রিকেটারদের টানা ম্যাচ না খেলাকে ‘কারণ’ হিসেবে সামনে নিয়ে আসা যায়। বিভিন্ন কারণে বেশির ভাগ বিদেশি ক্রিকেটাররা লম্বা সময় ধরে দলের সঙ্গে থাকেননি।
কিন্তু যাঁরা নিয়মিত খেলেছেন, তাঁরাও কতটুকু প্রভাব রাখতে পেরেছেন—এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলানোর দুটি কারণ শোনা যাক রংপুর রাইডার্সের কোচ মিকি আর্থারের মুখে। জাতীয় দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কোচিং করানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর।
আর্থার কাল বলছিলেন, ‘বিদেশি ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে এলে দুটি ভূমিকা রাখতে হয়। এক. তাদের (পারফরম্যান্সের দিক থেকে) প্রভাব থাকতে হবে দলে। দুই. স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটারদের ভালো খেলতে সাহায্য করতে হবে তাদের।’
আর্থারের বলা প্রথম কারণটির সার্থক উদাহরণ হতে পারে চট্টগ্রাম রয়্যালস। টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগে মালিকানা বদলে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম। শুরুতে তারা খেলেছিল মাত্র দুজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে।
সেই দলটাই যে এখন বিপিএলের শীর্ষ দুই দলের একটি, তাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলটির হয়ে খেলা ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম রসিংটন ও পাকিস্তানের পেসার আমির জামাল। ৬ ম্যাচে প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করা রসিংটন অবশ্য চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
কিন্তু চট্টগ্রামের বাইরে? ছোট ছোট অবদান আছে, দু–একটি ম্যাচে বিদেশি ক্রিকেটাররা হয়তো ঝলকও দেখিয়েছেন, কিন্তু হুট করেই তাঁদের ছাপ রাখা পারফরম্যান্স মনে করা বেশ কঠিন কাজই হওয়ার কথা।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে এলে দ্বিতীয় ভূমিকাটাও কি ঠিকঠাক পূরণ করতে পারছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা? এবারের বিপিএলটা কাছ থেকে দেখা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের উত্তর ‘না’। শুরুতে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য থাকলেও বিসিবি চট্টগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে মেন্টর করা হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। বিদেশি ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি দেখভালের সঙ্গে জড়িত আছেন হাবিবুল।
তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব রাখতে পারেন—এমন বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা এবারের বিপিএলে খুবই কম বলে মনে করেন হাবিবুল, ‘বিপিএলকে নিয়ে আসলে অনেক বদনাম ছড়িয়ে পড়েছে, আমরাই হয়তো তা ছড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে নামী বিদেশিরা আসছে না। আর এত টুর্নামেন্ট হয়, তাদের পাওয়াটাও আসলে মুশকিল হয়ে যায়।’
প্রভাব রাখতে পারেন এবারের বিপিএলে—এমন বিদেশি খুঁজতে গিয়ে মঈন আলী, ডেভিড ম্যালান, জিমি নিশামদের বাইরে গিয়েও হয়তো কেউ কেউ মোহাম্মদ আমির-কাইল মায়ার্স কিংবা মোহাম্মদ নবীদের নাম বলতে পারেন। কিন্তু তালিকাটা খুব লম্বা করা কঠিন।
বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে নিয়মিতই। শুরুর দিকে আইএল টি-টোয়েন্টি আর পরে জাতীয় দলের ব্যস্ততায় বেশির ভাগ ক্রিকেটারই এবার ২-৩ ম্যাচের বেশি স্থায়ী হননি দলগুলোতে।
তবে বিপিএলে এমন ঘটনা আগেও হয়েছে। ২-৩ ম্যাচের জন্য এসেই নিজেদের প্রভাব রেখে গেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, আন্দ্রে রাসেল কিংবা ক্রিস গেইলদের মতো তারকারা। নানা কারণে বিপিএলে এখন আর সেই জৌলুশ নেই, বরং অনেকটাই রুগ্ণ দশা।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাস্তবতাও এখন দুনিয়াজুড়ে বদলে গেছে অনেকটাই।
তবু বিপিএলটা যে এত বিতর্ক পেরিয়েও আয়োজন করা হয়, এর পেছনে অন্তত মুখে মুখে ‘তরুণ ক্রিকেটারদের শেখার মঞ্চ’ কারণটা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এবারের বিপিএলে অন্তত এখন পর্যন্ত সেই ছাপ নেই।
বিদেশিরা দলগুলোতেও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে তো ছাপ রাখতে পারছেনই না, প্রভাব রাখতে পারছেন না তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও।