সুপার টুয়েলভে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এরপর গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কিছু পাওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে হতো রাজাকেই। আর সেই এগিয়ে আসার জন্য ম্যাচের আগের রাত থেকেই ভাবতে শুরু করেন তিনি, ‘রাতে আমি তেমন ঘুমাতে পারিনি। আমার মাথায় এ ম্যাচটি ঘুরছিল। বারবার ভাবছিলাম কীভাবে ব্যাটিং করব। আমি কিছু নোট নিয়েছিলাম। সেগুলো বারবার পড়ছিলাম এবং মাথায় শুধু এগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল।’

এভাবে ভাবতে ভাবতেই পরদিন সকালে ঘুম থেকে জাগেন রাজা, ‘জিম্বাবুয়ের জন্য এসব ম্যাচে শেখার সুযোগ অনেক। আমরা সহসাই বড় মঞ্চে এমন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। ফ্লাডলাইটের নিচেও বেশি খেলার সুযোগ পাই না। পার্থে এটি আমার প্রথম ম্যাচ ছিল। এই ম্যাচে আমার জন্য এবং আমাদের দলের জন্য শেখার অনেক কিছু ছিল। আমি এখানের কিছু ম্যাচ দেখেছি এবং নিজে নিজে নোট বানিয়েছি। আমার শরীর হয়তো ঘুমাচ্ছিল, কিন্তু আমার মন শুধু সেগুলো নিয়েই ভাবছিল।’

এরপরই ঘটল অদ্ভুত এক ঘটনা। যে ঘটনায় বাড়তি অনুপ্রেরণাটাও পেয়ে যান রাজা, ‘আমি ঘুম থেকে ওঠার পর আমার এক বন্ধু মেসেজ দিল, “তুমি কি আইসিসির পেজের ভিডিওটি দেখেছ?” আমি বললাম, না! তখন সে বলল, “তাহলে তাড়াতাড়ি দেখে ফেল।” সেই ভিডিওটি ছিল রিকি পন্টিংয়ের। তিনি আমাদের দলের ব্যাপারে, বিশেষ করে আমাকে নিয়ে ভালো ভালো কথা বলছিলেন। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব বলছিল এটি দেখে তাদের চোখে আনন্দের পানি চলে এসেছিল।’

সেই ভিডিও রাজাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, সেটাও বললেন জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার, ‘আমার মধ্যে একধরনের শিহরণ কাজ করছিল। ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের একজন জিম্বাবুয়ের ব্যাপারে, বিশেষ করে আমার ব্যাপারে এসব বলছিলেন। এমন নয় যে আমার একটি বাড়তি অনুপ্রেরণা দরকার ছিল। তবে সেই ভিডিওটিই ছিল আমার বিশেষ অনুপ্রেরণা। আমি শান্ত থাকতে চেয়েছিলাম। একই সঙ্গে এই ম্যাচের জন্য উত্তেজিত ছিলাম।’

পন্টিং রাজাকে নিয়ে এমন কী বলেছিলেন আইসিসিতে? ‘তার বয়স ৩৬ বছর। কিন্তু সে খেলে তারুণ্য নিয়ে। তাকে দেখে মনে হয় তার বয়স হয়তো ২৬ বছর। সে পুরো মাঠে দৌড়ায়, নিজের খেলাটা উপভোগ করে এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। এসব খেলোয়াড়েরা বড় উপলক্ষ আর বড় মঞ্চ চায়। আর এটা পেলে সেটাকে বৃথা ফসকে যেতে দেয় না। রাজা এ কাজটা দুর্দান্তভাবে করছে’—রাজাকে নিয়ে পন্টিংয়ের কথাগুলো ছিল এমনই।

পন্টিংয়ের এই প্রশংসা রাজাকে কতটা অনুপ্রাণিত করেছে, সেটা স্পষ্ট হয়েছে বড় মঞ্চ আর বড় উপলক্ষে কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে জ্বলে ওঠাতেই। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১৩০ রানই করতে পারে জিম্বাবুয়ে। সেখানে রাজার অবদান ছিল মাত্র ৯ রান। তবে বল হাতে রান পাওয়ার আক্ষেপ মেটান জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার। পাঁচ নম্বরে বোলিং করতে এসে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচের মোড়ও ঘুরিয়ে দেন, জিম্বাবুয়ে জেতে ১ রানে।

অতঃপর সিকান্দার আরেকবার জিম্বাবুয়ের ‘রাজা’ হলেন! জিতলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। আর এবার যে তাঁর রাজা হওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে পন্টিংয়ের সেই বাণীও, সে গল্প তো বলাই হলো!