এভাবেই চ্যাম্পিয়নরা উঠে আসে—নেপালকে নিয়ে প্রশংসায় সাবেক ক্রিকেটাররা
এটি হতে পারত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বড় অঘটনগুলোর একটি। বিশ্ব ক্রিকেটে লেখা হতো নেপাল ক্রিকেট দলের ইতিহাস গড়ার বীরোচিত এক গল্প। কিন্তু মাত্র ৪ রানের জন্য ইংল্যান্ডকে হারাতে পারল না নেপাল। খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত মন খারাপ করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এশিয়ান ক্রিকেটের উদীয়মান দলটির খেলোয়াড়দের।
রোববার রাতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৭ উইকেটে ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে নেপাল ৬ উইকেটে ১৮০ রানে তোলে।
শেষ ৬ বলে ১০ রানের হিসাব মেলাতে না পারলেও ফেবারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেপালের পারফরম্যান্স সাবেক ক্রিকেটারদের দৃষ্টি কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালকে নিয়ে প্রশংসার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন ডেল স্টেইন–রবিচন্দ্রন অশ্বিন–যুবরাজ সিংরা। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার স্টেইন তো নিজে থেকেই নেপালের ক্রিকেটের জন্য কাজ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
১৯৯৬ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্যের স্বীকৃতি পাওয়া ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেওয়া ম্যাচটি দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করেন অনেকে। ভারতের স্পিন কিংবদন্তি অশ্বিন যেমন এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘নেপালের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। তারা নিশ্চিতভাবে উদীয়মান ক্রিকেটীয় দেশগুলোর একটি। অনেক সম্ভাবনা তাদের।’
২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় নেপাল। সেই আসরে তারা হংকং ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নেয়। ২০১৬, ২০২১ ও ২০২২ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে না পারলেও ২০২৪ সালে আবার বিশ্বকাপে ফিরে আসে তারা। সেবারও অঘটনের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল নেপাল। বাংলাদেশকে ১০৬ রানে অলআউট করলেও পরে আর জিততে পারেনি।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছিল মাত্র ১ রানে। গতকাল রাতের হারটাও যেন সেই ম্যাচ দুটিকে মনে করিয়ে দিল। এমন হার নেপালকে হতাশ করলেও সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভনের কথাগুলো হয়তো তাদের মন ভালো করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভন বলেছেন, ‘অসাধারণ ক্রিকেট ম্যাচ। নেপালের ক্রিকেটাররা যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা অসাধারণ।’
এদিকে নেপালের খেলা দেখে তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবটা নিজে থেকেই দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ডেইল স্টেইন। তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের কখনো যদি আমার দরকার হয়, আমি আমার সেবা দিতে প্রস্তুত। আরও ওপরে যাও। আরও ওপরে!’
নেপালের মধ্যে বড় দল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন ভারতের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংও, ‘বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটির বিপক্ষে খেলেও শেষ বল পর্যন্ত লড়ে গেছে। দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্বাস আর হৃদয় থাকলে কী করা যায়! এইভাবেই দল গড়ে ওঠে, এইভাবেই চ্যাম্পিয়নরা উঠে আসে।’
কোনো রকমে পাওয়া জয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও ম্যাচ শেষে নেপালকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, ‘ম্যাচটা একদমই সহজ ছিল না। ভাগ্য ভালো, শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পেরেছি। তারা দুর্দান্ত খেলেছে। আদিল রশিদকে যেভাবে তারা খেলেছে, খুব কম দলই খেলতে পারে। তারা আমাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। আমি ভেবেছিলাম আমরা সংগ্রহটা ভালোভাবেই ডিফেন্ড করতে পারব, এতটা কাছাকাছি যাবে ভাবিনি। বাকি টুর্নামেন্টের জন্য আমি তাদের সব শুভকামনা জানাই।’
১২ ফেব্রুয়ারি ওয়াংখেডে স্টেডিয়ামে নেপাল নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে ইতালির সঙ্গে।