হেড, টাং, হ্যান্ডস, পাম, বিয়ার্ড, ব্রেইন—অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নয়, তাঁরা টেস্ট ক্রিকেটার
খেলার মাঠে খেলা তো হয়ই, এর বাইরেও থাকে বিচিত্র অনেক কিছুই। মাঠে ও মাঠের বাইরের বিচিত্র সব ঘটনা নিয়েই এ আয়োজন।
অবশেষে শেষ হলো অ্যাশেজ। ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নে দুই দিনেই চতুর্থ টেস্টটা জিতেই একটু মুখ বাঁচিয়েছে ইংলিশরা। দল হারলেও সিরিজে দারুণ বোলিং করেছেন তরুণ ইংলিশ পেসার জশ টাং। ৩ টেস্ট খেলে ২০.১১ গড়ে নিয়েছেন ১৮ উইকেট। এই ১৮ উইকেটের ২টি আবার ২০২৫-২৬ অ্যাশেজের সেরা ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডের। অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় ইনিংসে হেডকে ফেরানোর পর গতকাল সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের উইকেট পেয়েছেন টাং।
অ্যাডিলেডে প্রথমবার হেডকে ফিরিয়েই অন্য রকম এক ইতিহাস গড়েছিলেন টাং। টাং মানে তো জানেন—জিহ্বা, আর হেড মানে মাথা। ১৪৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম শরীরের কোনো অঙ্গের নামের কোনো বোলার শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের নামে নাম রাখা কোনো ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন!
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নামে নাম, এমন খেলোয়াড় দুর্লভ হলেও একেবারে কম নেই টেস্ট ইতিহাসে। ট্রাভিস হেড ও জশ টাং ছাড়াও আছে রেজিন্যাল্ড হ্যান্ডস (হাত), ফিলিপ হ্যান্ডস, আর্চিবল্ড পাম (হাতের তালু), ডন বিয়ার্ড (দাঁড়ি), গ্রায়েম বিয়ার্ড ও ডেভিড ব্রেইন (মস্তিষ্ক)।
তাঁদের মধ্যে হ্যান্ডস ভাইয়েরা দক্ষিণ আফ্রিকার। ফিলিপ ১৯১৩ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সাতটি টেস্ট খেলেন। বড় ভাই রেজিন্যাল্ড একমাত্র টেস্টটি খেলেন ১৯১৪ সালে। রেজিন্যাল্ডের একমাত্র টেস্টে ছিলেন ফিলিপও।
ডন বিয়ার্ড ও গ্রায়েম বিয়ার্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ডন বিয়ার্ড ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে খেলেছেন চারটি টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান গ্রায়েম বিয়ার্ড ১৯৮০ সালে পাকিস্তান সফরে খেলেন তিনটি টেস্ট।
আর্চিবল্ড পাম ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার। ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি খেলেন এই ব্যাটসম্যান।
ডেভিড ব্রেইনের বাড়ি জিম্বাবুয়েতে। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ৯ টেস্টে ৩০ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্ট জয়ে বল হাতে ভালো ভূমিকাই রেখেছিলেন ব্রেইন। পাকিস্তানকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর পথে প্রথম ইনিংসে ১টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন ব্রেইন।