আবার হাসল তানজিদের ব্যাট, এবার পেলেন সেঞ্চুরিও
হেলমেটটা খুলে রেখেছিলেন আগেই। সালমান আগার বলটা উড়িয়ে সীমানাছাড়া করার পর তানজিদ হাসান ছড়িয়ে দেন দুই হাত। তাঁর চোখেমুখে তখন দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হওয়ার তৃপ্তি। সেই আনন্দ সঙ্গী করেই লুটিয়ে পড়লেন সেজদায়। এরপর জড়িয়ে ধরলেন অপর প্রান্ত থেকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসা সতীর্থ লিটন দাসকে।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই তানজিদকে ঘিরে বড় আশা। তিনি যে ভালো করেননি, তা নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই বড় ইনিংসের দেখা পাচ্ছিলেন না কিছুতেই। ৩০ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৫টি আর ৪৫ টি-টুয়েন্টিতে ছিল ১১টি হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু ম্যাজিক ফিগার ‘তিন অংক’ ছোঁয়া হচ্ছিল না কিছুতেই। আজ মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ঘুচল সেই আক্ষেপ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে একাদশে জায়গা হয়নি তানজিদের। সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দলের পছন্দ ছিল সৌম্য সরকার। সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্য করেছিলেন ৪৫ রান। তৃতীয় ম্যাচে সাইফের সঙ্গে গড়েছিলেন ১৭৬ রানের জুটি, ৯১ রানের ইনিংসে সৌম্য হয়েছিলেন ম্যাচসেরাও। তবু তাঁকে সরিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট ও প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে রাখা হয় তানজিদকে। ১১৪ রান তাড়ায় নেমে ৪২ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট, ৭ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। আজ ব্যর্থ হলে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিতভাবেই বড় প্রশ্ন উঠত। কিন্তু তানজিদ তা হতে দিলেন কই!
আজ আবার চেনা ছন্দে ফিরেছেন এই ওপেনার। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়েছে তাঁর ব্যাটের ছোঁয়ায়। পাওয়ার প্লের কথাই ধরা যাক; ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান যখন ৫০, তানজিদ তখন অপরাজিত ৩০ রানে (৩৩ বল)। এই সময়ের মধ্যে দুই ছক্কা মেরে একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। লিটন দাসকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।
এমন ঝলক অবশ্য ক্যারিয়ারে অনেকবারই দেখিয়েছেন তানজিদ। বাউন্ডারি মারার সক্ষমতায় তিনি দেশের অন্যতম সেরা। কিন্তু ইনিংস টেনে লম্বা করতে না পারার অপবাদটা ছিল তাঁর সঙ্গী। এবার আর সেই ভুল পথে হাঁটেননি। ৪৭ বলে পেলেন ফিফটি, আর সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ৯৮ বলে।
৯ চারের পাশাপাশি তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি ছক্কা। ততক্ষণে মিরপুরে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার কীর্তিও এখন তাঁর।
তিন অংক পেরোনোর পর অবশ্য ইনিংসটা আর খুব বেশি বড় করতে পারেননি তানজিদ। আগে থেকেই তাঁর শরীরী ভাষায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল, ঠিকঠাক হাঁটতেও পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রানেই থেমেছে তাঁর লড়াকু ইনিংস। তবে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে গেছেন এই তরুণ ওপেনার।