তিন দিনেই হেরে গেছে বরিশাল, তাইবুর–সাদিকুরের সেঞ্চুরি
দ্বিতীয় দিন শেষেই বরিশালের হার উঁকি দিয়েছিল। খুলনার বিপক্ষে আজ তিন দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হেরে গেছে তারা। তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরির পর তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে রংপুরের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থায় চলে গেছে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকা ঢাকা। শেষ দিনে রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় সিলেট–ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম–রাজশাহী ম্যাচ।
ইনিংস ব্যবধানে হার বরিশালের
জাওয়াদ আবরার–আবদুল্লাহ সিফাতের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা যোগ দিয়েছেন দলে। তবু এবারও শুরুটা ভালো হয়নি বরিশালের। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চার দিনের ম্যাচে খুলনার কাছে তৃতীয় দিনেই ইনিংস ও ১৩৫ রানে হেরে গেছে বরিশাল। প্রথম ইনিংসে খুলনার ৪২৬ রানের পর ৯৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল তারা। ফলো অন খেয়ে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি বরিশাল।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তাদের ব্যাটিংয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। ৬৭.১ ওভার ব্যাট করে অলআউট হওয়ার আগে করেছে ১৯৭ রান। হাফিজুর রহমান ১৪৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ রান করেছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার সবচেয়ে সফল বোলার ৪ উইকেট নেওয়া পেসার সফর আলী। অফ স্পিনার শেখ পারভেজ তিনটি আর বাঁহাতি স্পিনার সামিউন বাসীর দুটি উইকেট পেয়েছেন।
সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাহফিজুল
প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির পথে আছেন ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেটের বিপক্ষে তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ রানে অপরাজিত তিনি।
প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহ করেছে ৩১১ রান, সিলেট থেমেছে ৩২৭ রানে। ১৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ময়মনসিংহকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার। ৫৭ রানে খালিদ হাসানের আউটে মাহফিজুলের সঙ্গে তাঁর ১৪৮ রানের জুটি ভাঙে দিনশেষ হওয়ার দুই বল আগে। তৃতীয় দিন শেষে ময়মনসিংহ এগিয়ে ১৩২ রানে।
তাইবুরের সেঞ্চুরি, বিপদে রংপুর
প্রথম ইনিংসে রংপুর করেছে ৩৪০ রান। ঢাকাকে ২৮৪ রানে অলআউট করে ৫৬ রানের লিড নিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে বিপদে পড়ে গেছে রংপুর। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬.১ ওভারে মাত্র ৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা।
আজ তৃতীয় দিনে ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল ঢাকা। দলের হাল ধরেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। তাইবুরের ১০৮ ও সুমনের ৯৪ রানের ইনিংসে ভর করে রংপুরের সঙ্গে ব্যবধান কমায় ঢাকা। এই ইনিংসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫ হাজার রান পূর্ণ হয়েছে তাইবুরের।
দ্বিতীয় ইনিংসে বোলাররাও দুর্দান্ত শুরু পাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থায়ই চলে গেছে ঢাকা। রংপুরের দুই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেকের পর শূন্য রানে আউট হন আবদুল্লাহ আল মামুনও। ৬২ রানে এগিয়ে থাকলেও টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর খুব একটা স্বস্তিতে নেই তারা।
চট্টগ্রামে সাদিকের সেঞ্চুরি
মাহমুদুল হাসানের পর চট্টগ্রামের হয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন আরেক ওপেনার সাদিকুর রহমানও। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস ৩৬৪ রানে থামিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রান করেছে স্বাগতিক চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৪৬ রান করা রাজশাহী তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে আছে ১৭ রানে।
কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল চট্টগ্রাম। কালই সেঞ্চুরি পেয়ে যাওয়া মাহমুদুল তৃতীয় দিনে আর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১০৫ রানে শফিকুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যান। সঙ্গী সাদিকুর করেন ১১৫ রান।
তাসামুল হকের ফিফটি ও ইরফান শুক্কুরের ৮৬ রানের ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের লিড পায় চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো না হলেও নাঈম আহমেদ ৩০ ও প্রিতম কুমারের অপরাজিত ৯ রানে শেষ দিনে চট্টগ্রামের সামনে চ্যালেঞ্জ করার মতো লক্ষ্য দেওয়ার আশা দেখছে রাজশাহী।