‘অলৌকিক’ভাবে জেগে উঠেছেন কোমায় থাকা বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান
কদিন আগে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেমিয়েন মার্টিন। গুরুতর অসুস্থ ৫৪ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটারকে কোমায় (চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধের মাধ্যমে রোগীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অচেতন রাখা) রাখা হয়। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পর কোমা থেকে জেগে উঠেছেন মার্টিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁরই সাবেক সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।
কোড স্পোর্টসকে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গিলক্রিস্ট বলেন, ‘কোমা থেকে বের হওয়ার পর সে অসাধারণভাবে সাড়া দিচ্ছে। অসুস্থতাটা এমন গুরুতর ছিল যে তার পরিবার মনে করছে, এটা যেন একধরনের অলৌকিক ঘটনা।
পরিস্থিতি এখন এতটাই ইতিবাচক যে তারা আশা করছে, শিগগিরই তাকে আইসিইউ থেকে হাসপাতালের অন্য একটি ওয়ার্ডে নেওয়া যাবে। এতে বোঝা যায়, তার সেরে ওঠার গতি কতটা দ্রুত এবং কত বড় পরিবর্তন এসেছে।’
এদিকে সোমবার অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ফক্স স্পোর্টস জানায়, ‘মার্টিন এখন কোমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং তিনি তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন।’
এর আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নাইন জানায়, বক্সিং ডেতে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে শুয়ে পড়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্টিন। পরে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। মেনিনজাইটিস মূলত মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা ঝিল্লির প্রদাহজনিত একটি গুরুতর রোগ।
সে সময় মার্টিনের কাছের বন্ধু এবং একসময় অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে তাঁর সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট নিউজ কর্পকে বলেন, ‘সে সেরা চিকিৎসা পাচ্ছে এবং (মার্টিনের সঙ্গী) আমান্ডা ও তার পরিবার জানে, অনেক মানুষ প্রার্থনা করছে।’ সেই প্রাথর্নাই বোধ হয় শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে। এখন প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে সেরে উঠছেন মার্টিন।
ক্রিকেট দুনিয়ায় মার্টিন পরিচিত ছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রোকমেকার হিসেবে। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিন সংস্করণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মোট ২৭৯ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ৬৭ টেস্টে ১৩টি সেঞ্চুরিতে মার্টিন করেছেন ৪,৪০৬ রান, ব্যাটিং গড় ছিল ৪৬.৩৭।
২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যও ছিলেন মার্টিন। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে অপরাজিত ৮৮ রান করে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০০৬ সালের অ্যাশেজের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যান মার্টিন। এর পর থেকে তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন।