‘ছোলা বিক্রি করতে এসেছিলে নাকি?’—বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে আকরামের তোপ

ওয়াসিম আকরামের কথা, নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে বাবর যদি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে থাকতেন, তবেই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভালো হতো।পিসিবি ও এএফপি

ইংল্যান্ড সফরে ধবলধোলাই হওয়ার পর সপ্তাহখানেকের বেশি কেটে গেছে। কিন্তু পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেন থামছেই না।

সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর পাকিস্তান দলের কোচ ও খেলোয়াড় ছাঁটাই নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু তৃতীয় টেস্টের আগে দলের অধিনায়ক বাবর আজম সাফ জানিয়ে দেন, এসব সিদ্ধান্তের কিছুই নাকি তিনি জানতেন না। এ নিয়েই এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক কিংবদন্তি পেসার ও অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। তাঁর কথা, নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে বাবর যদি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে থাকতেন, তবেই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভালো হতো।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাবেক সতীর্থ ওয়াকার ইউনিসের পাশে বসেই বাবর আজমের ওপর তোপ দাগেন ওয়াসিম আকরাম। প্রথম দুই টেস্টের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যখন কোচ সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে ছাঁটাই করে এবং দল থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায়, তখন বার্মিংহামে তৃতীয় টেস্টের টসে এসে বাবর দাবি করেছিলেন, ‘এসব আমার কাছেও নতুন খবর।’ পিসিবির দিকে আঙুল তুলে বাবর বলেছিলেন, সাংবাদিকেরা যেন এই প্রশ্নগুলো বোর্ডকেই জিজ্ঞেস করেন।

বাবর আজমের সঙ্গে ওয়াসিম আকরাম।
ইনস্টাগ্রাম


দলের এত বড় রদবদলের খবর অধিনায়ক জানবেন না, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওয়াসিম আকরাম। চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি তাই প্রশ্ন তুলেছেন দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে, ‘বাবর আজম বলেছে সে কিছুই জানত না। তুমি যদি কিছুই না জানো, তবে এখানে কী করছিলে? ছোলা বিক্রি করতে এসেছিলে নাকি?’

অধিনায়কের এমন অবস্থান দলের জন্য চরম ক্ষতিকর উল্লেখ করে আকরাম বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে বা একজন মানুষ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আপনার অধিনায়ক যদি আপনার পাশে না দাঁড়ান, তবে আপনি মাঠে শতভাগ দিতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন

ওয়াসিম আকরামের মতে, পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তখন বাবরের উচিত ছিল অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। আকরামের পরামর্শ, ‘আমার মনে হয়, দ্বিতীয় টেস্টের পরপরই বাবরের বলা উচিত ছিল যে সে আর অধিনায়কত্ব করবে না, শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে সিরিজটি খেলবে। বাবরের টেস্ট অধিনায়কত্ব নেওয়াটাই উচিত হয়নি। এই পুরো ঝামেলার কোনো দরকারই ছিল না।’

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাবর্তনটা ভালো হয়নি বাবর আজমের
রয়টার্স


শান মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গত ৫ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য নতুন করে টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পান বাবর আজম। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে ২০টি ম্যাচে ১০টি জয়, ৬টি হার ও ৪টি ড্র ছিল তাঁর ঝুলিতে।


নতুন মেয়াদের শুরুতেই অবশ্য ভালো কিছু করে দেখাতে পারেননি বাবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুই টেস্টের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করার পর ইংল্যান্ডের মাটিতে এসে জোটে ৩–০ ব্যবধানে হারের লজ্জা। লিডসে হেডিংলি টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের হার এবং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয় সেই তথাকথিত শুদ্ধি অভিযান। সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে ও কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এনেও শেষরক্ষা হয়নি। বার্মিংহামের এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে পুরোপুরি হোয়াইটওয়াশ করে।

আরও পড়ুন