২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ভারতের বিপক্ষে আরেকটি স্বল্প ব্যবধানে হারের আক্ষেপ যোগ হলো বাংলাদেশের। নিজেদের গ্রুপে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত পঞ্চম হয়েছে। কী হতো যদি সেদিন শেষ বলে ভারতের বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশ পেয়ে যেত?

গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফল অপরিবর্তিত রেখে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা যদি শেষ বলে জেতা যেত, তাহলেও বাংলাদেশের সেমিফাইনালে উঠতে না পারার আফসোস রয়ে যেত। কারণ, তখন বাংলাদেশ গ্রুপ শেষ করত তৃতীয় দল এবং ১২ দলের মধ্যে ষষ্ঠ হিসেবে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিংয়ে নজর দিয়ে অবশ্য আশাব্যঞ্জক তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। ৫ ম্যাচে মোট রান করেছে ৬৬৭। সুপার টুয়েলভে ১২ দলের মধ্যে এটি অষ্টম সর্বোচ্চ। তবে ওভারপ্রতি ধরলে সেটা দাঁড়ায় মাত্র ৭.২১। ইনিংসপ্রতি বাংলাদেশের গড় রান প্রায় ১৩৩। এই রান নিয়ে বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন।

বাস্তবেও সেটা হয়েছে, র‍্যাঙ্কিংয়ে ওপরের কোনো দলকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তুলনার জন্য বলা যেতে পারে, ওভারপ্রতি সবচেয়ে বেশি রান নিয়েছে নিউজিল্যান্ড (৮.৮৮), গড়ে প্রতি ইনিংসে তারা প্রায় ১৭৮ রান করেছে।

বোলিংয়ে বাংলাদেশ ৫ ম্যাচে বিলিয়েছে ৭৯৯ রান। সুপার টুয়েলভে ১২ দলের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি। বোলাররা ওভারপ্রতি গড়ে ৮.১৩ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের প্রতি ইনিংসে গড়ে রান হয়েছে প্রায় ১৬০ করে। লক্ষণীয়, বাংলাদেশ ইনিংসপ্রতি গড়ে রান করেছে ১৩৩, আর রান দিয়েছে ১৬০। এ কারণেই বাংলাদেশের হারের পর অধিনায়কের মুখ থেকে প্রায়ই শুনতে হয়েছে, ‘আমরা সম্ভবত ১৫-২০ রান কম করেছি।’

সামগ্রিকভাবে সুপার টুয়েলভে তাকানো যাক। সবচেয়ে বেশি ৮৪২ রান করেছে ভারত। ভারত বাদে ৭১১-এর বেশি রান করতে পেরেছে শুধু নিউজিল্যান্ড। ব্যক্তিগতভাবে গ্রুপ পর্বটা দুর্দান্ত গেল বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবের। দুজনই করেছেন ৪৭১ রান—ভারতের মোট রানের যা ৫৬ শতাংশ! সেটাও আবার প্রায় ১৬১ স্ট্রাইক রেটে।

সুপার টুয়েলভে সবচেয়ে বেশি রান করা ৫ দল

• অনেক দলই পাঁচ ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পায়নি

ওভারপ্রতি দ্রুত রান তোলার হিসাবে শীর্ষ ৫

• বাংলাদেশের ওভারপ্রতি রান ৭.২১। ওভারপ্রতি সবচেয়ে কম রান নেদারল্যান্ডসের—৬.৩৯।

সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছে যারা

ওভারপ্রতি সবচেয়ে হিসাবি বোলিং

• বাংলাদেশ ওভারপ্রতি রান দিয়েছে ৮.১৩ করে।

বাংলাদেশের বোলাররা সবচেয়ে বেশি রান দিলেও ওভারপ্রতি সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছে আয়ারল্যান্ড (৮.৬৬)। আইরিশরা অবশ্য বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের চেয়ে একটি ম্যাচে কম খেলেছে।

উইকেট শিকারে সবার ওপরে পাকিস্তান। ৫ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪০ উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি-রউফরা। সবচেয়ে কম উইকেট শিকার করেছেন আফগান ও আইরিশ বোলাররা (১৭টি করে)। তবে আফগানদের ২টি ও আইরিশদের ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

উইকেট–শিকারে শীর্ষ ৫ দল

তবে প্রতিটি উইকেট শিকার করতে গড়ে কতটা বল করতে হয়েছে, সে তালিকায় শীর্ষে প্রোটিয়া বোলাররা। রাবাদা, নর্কিয়েরা প্রতি ১২ বলে ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন, অন্যদিকে প্রতিটি উইকেটের জন্য সবচেয়ে বেশি বল করতে হয়েছে আফগান বোলারদের (স্ট্রাইক রেট ২০.০০)।

বোলিং স্ট্রাইক রেটের হিসাবে শীর্ষ ৬ দল

• বাংলাদেশের বোলারদের স্ট্রাইক রেট ২০.৩।

এসব পরিসংখ্যানে তাকালে কিছু কৌতূহল-জাগানিয়া বিষয় লক্ষ করা যায়। যেমন ধরুন, সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের (রানরেট) তালিকায় দ্বিতীয় ও চতুর্থ নাম দুটি হলো দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দুই দলই সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতাটা মূলত বোলিংয়ে। কামিন্স-হ্যাজলউডরা ওভারপ্রতি বিলিয়েছেন ৮.২৩ রান, তেমনি তাঁদের বোলিং স্ট্রাইক রেট ২১.৩, যেটি স্ট্রাইক রেটের তালিকায় ১১তম।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার এমন নখদন্তহীন বোলিং পারফরমেন্স অকল্পনীয় নয় কি? আর দক্ষিণ আফ্রিকা? আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও বোলিং—দুটি তালিকাতেই তারা ওপরের দিকে। তাহলে? প্রোটিয়াদের পতনে কিছুটা দুর্ভাগ্য আর নিজেদের কুখ্যাত ‘চোকিং’ ছাড়া কাকে দায়ী করবেন!

ভারতের ব্যাটিংটা কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবকেন্দ্রিক। দুজনের জন্য ইংলিশদের পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, সেটাই সেমিফাইনালের ফল বলে দেবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের ম্যাচটা হবে আক্ষরিক অর্থেই সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই।

ব্যাটিং-বোলিং পারফরমেন্সের ভারসাম্য খুঁজতে গেলে নিউজিল্যান্ডকে আপাতত সবচেয়ে সফল বলতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে সুপার টুয়েলভে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে কিউইরা, আর সবচেয়ে কার্যকর বোলিং পাকিস্তানের। এই দু্ই দলের সেমিফাইনাল তাই আরেকটি ‘ক্ল্যাসিক টি-টোয়েন্টি’ উপহার দিতেই পারে!