টেস্টে এক নম্বর, টি–টুয়েন্টিতে শীর্ষ দশে—দুই দুনিয়ার এক ব্রুক
বাংলায় বহুল চর্চিত একটি প্রবাদ আছে—‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’ এককথায়, বহুমুখী প্রতিভা যার আছে। প্রবাদটির ক্রিকেটীয় সংস্করণ হতে পারে, ‘যিনি টেস্টে ভালো, তিনি টি-টুয়েন্টিতেও ভালো।’ হ্যারি ব্রুক যেন সেই প্রবাদকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। টেস্ট ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে, টি-টুয়েন্টিতেও শীর্ষ দশে (৯)—দুই বিপরীতধর্মী ফরম্যাটেই বিশ্বের সেরাদের একজন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। এই মুহূর্তে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি দুই র্যাঙ্কিংয়েই শীর্ষ দশে ব্রুক ছাড়া আর কেউ নেই।
তবে ব্রুক শুধু ব্যাটসম্যানই নন, সফল অধিনায়কও। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৬টি টি-টুয়েন্টির ২৩টিতেই জিতেছে তাঁর দল। যার সর্বশেষটি শনিবার শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে। একটি সেঞ্চুরিসহ ১৭০ রান করে সিরিজসেরা হয়েছেন ব্রুকই, সেই সঙ্গে জায়গা ধরে রেখেছেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও। আর সিরিজ জিতে ভারতকে টপকে টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ডও।
একই সময়ে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি দুই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা নজিরবিহীন কিছু নয়। তবে ব্রুকের কীর্তির বিশেষত্বটা শুধু র্যাঙ্কিংয়ে নয়, বরং দুই ফরম্যাটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটের প্রতি অগ্রাধিকারের মধ্যেও।
টেস্ট ক্রিকেট চায় ধৈর্য, মনোযোগ ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করার সামর্থ্য। আর টি-টুয়েন্টির দাবি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং আর কয়েক বলের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য। আন্তর্জাতিক সূচির টানা ব্যস্ততা, সঙ্গে ঘরে-বাইরে একের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। সব মিলিয়ে টেস্টের সঙ্গে টি-টুয়েন্টি একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান না অনেকেই। কারও বেলায় আছে দুই বিপরীতধর্মী ফরম্যাটে সামর্থ্যের প্রশ্নও।
বিষয়টি বোঝা যাবে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকালেই। ৮৬১ পয়েন্ট নিয়ে ব্রুক এখন এক নম্বরে। এর পরের জায়গাগুলোয় আছেন যথাক্রমে স্টিভ স্মিথ, জো রুট, ট্রাভিস হেড ও টেম্বা বাভুমা। তাঁদের মধ্যে হেড ছাড়া বাকি তিনজন এখন টি-টুয়েন্টি খেলছেন না অথবা নির্বাচকেরাই তাঁদের বিবেচনা করেন না। আবার টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে যাঁরা শীর্ষ পাঁচে আছেন, তাঁরাও টেস্টে খেলেন না বা দলে জায়গা পান না (ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মা, সাহিবজাদা ফারহান, ফিল সল্ট ও ডেভাল্ড ব্রেভিস)।
তাহলে দুই ফরম্যাটের র্যাঙ্কিংয়েই শীর্ষ দশে থাকা ব্রুকের পক্ষে কীভাবে সম্ভব হলো? শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এর একটা উত্তর দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ২৭ বছর বয়সী অধিনায়ক, ‘আমি যতটা সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই। এটাই আমার অগ্রাধিকার। দ্য হানড্রেড ছাড়া কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও খেলি না। ফিট থেকে যতটা সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাই।’
ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার ওপর পুরো মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি হয়তো ব্রুককে দুই ফরম্যাটে নিয়মিত থাকার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু নিয়মিত খেললেই তো আর দুই ফরম্যাটে সাফল্য আসে না, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও জায়গা মেলে না। ব্রুকের কীর্তির বিশেষত্বটা এখানেই—তিনি শুধু দুই ফরম্যাটে খেলছেন না, দুটিতেই সেরাদের কাতারে আছেন।