দুয়োধ্বনি থেকে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক— বিপিএলে নাজমুলের ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতা

রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেনশামসুল হক

বিপিএলের শিরোপা নাজমুল হোসেন জিতেছিলেন গত বছরও। কিন্তু সেই শিরোপা তিনি কতটা আপন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে চাইলে প্রশ্ন তোলা যায়। ফরচুন বরিশালের হয়ে সেবার মাত্র ৫ ম্যাচ খেলেছিলেন, একাদশে সুযোগ পেতে তাঁকে উইকেটকিপারের ভূমিকাও নিতে হয়েছিল। প্রায় পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শুনেছিলেন নাজমুল।

কিন্তু এই এক বছরে ছবি বদলে গেছে পুরোপুরি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি এবার বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ১৩ ম্যাচে ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৫৫ রান করেছেন নাজমুল। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে একটি সেঞ্চুরিও।

বিপিএলে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা জেতার পর নাজমুল তাই জানালেন দুটি বিপিএলের নিজের আলাদা অভিজ্ঞতার কথা, ‘গত বছরও ভালো লেগেছে; কিন্তু অবদান রাখতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগে। যেটা আমার মনে হয় যে আমি এ বছর করতে পেরেছি খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে। এটা বাড়তি ভালো লাগার বিষয়। প্রথমবার অধিনায়ক হিসেবে বিপিএল জেতাটা অনেক স্পেশাল।’

অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি নিচ্ছেন নাজমুল
প্রথম আলো

রাজশাহীর জন্য শিরোপাটা আরও বিশেষ হয়েছে ভিন্ন একটা কারণেও। দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা জিতেছে রাজশাহী নামের ফ্র্যাঞ্চাইজি—২০২০ সালে তারা জিতেছিল রাজশাহী রয়্যালস নামে। বিপিএলে প্রায় ১০ বছর ধরে খেলা নাজমুল অবশ্য এর আগে কখনোই রাজশাহী নামের ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলেননি। অথচ তাঁর বাড়ি রাজশাহী।

আরও পড়ুন

এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহীর হয়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দটা তাই আলাদা নাজমুলের, ‘এখানে অনেক বেশি আবেগ জড়িয়ে আছে। রাজশাহী হয়ে খেলার কখনো সুযোগ হয়নি। এবার অধিনায়ক হিসেবে খেলা এবং পাশাপাশি দলকে জেতানো—আমার মনে হয় এটা একটা বাড়তি ভালো লাগার বিষয়, একটা বড় দায়িত্ব ছিল। আমার মন থেকে চেষ্টা করেছি রাজশাহীর যত মানুষ আছে তাদের একটা সুন্দর উপহার দিতে। তাদেরকে শিরোপা দিতে পেরেছি।’

নিলাম থেকে শুরু করে এবারের বিপিএলে সবচেয়ে গোছানো দল ছিল রাজশাহী। মাঠেও ছিল সেটির ছাপ। লিগ পর্বের শীর্ষ দল হিসেবে প্লে অফে এসেছিল তারা। বিপিএলে প্রথমবার এসেই চ্যাম্পিয়নও হয়েছে রাজশাহী।

নাজমুলের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
শামসুল হক

এই সাফল্যের রহস্য ভাঙলেন নাজমুল, ‘আমার মনে হয় দিন শেষে মাঠের ক্রিকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল আপনি যেরকমই বানান, মাঠে আমরা ওই প্রভাবটা রাখতে পেরেছি এবং প্রতিটা খেলোয়াড় যার যার জায়গাতে পারফর্ম করেছে, যার যতটুকু ভূমিকা ছিল পালন করেছে। আমার মনে হয় কৃতিত্বটা পুরো দলের। পুরো যাত্রাটা আমার মনে হয় আউটস্ট্যান্ডিং ছিল এবং আল্লাহর রহমতে আমরা দিনশেষে ট্রফিটা জিততে পেরেছি।’

আরও পড়ুন