ফখর জামান কি বল টেম্পারিংয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন

ফখর জামান এবার লাহোরের হয়ে খেলছেনইনস্টাগ্রাম/ফখর জামান

‘ফখর জামান শেষ। যেহেতু প্রমাণ সামনে চলে এসেছে, আমি নিশ্চিত বড় অঙ্কের জরিমানাই হতে যাচ্ছে।’

পিএসএলে বল টেম্পারিং কাণ্ডে জড়ানো ফখরকে নিয়ে এই মন্তব্য পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলীর। রোববার রাতে করাচি কিংস-লাহোর কালান্দার্স ম্যাচে বলের আকৃতি পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে ফখরের বিরুদ্ধে। আম্পায়ার তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর দল লাহোরকে ৫ রান জরিমানা করেন। তবে দল শাস্তি পেলেও বলের আকৃতি পরিবর্তনের সঙ্গে এখনো কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তবে ফখরের ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধির লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধের অভিযোগ এনেছে। যার শাস্তি সর্বনিম্ন থেকে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা।

ম্যাচের পর পিসিবির বিবৃতিতে জানানো হয়, ম্যাচ রেফারি রোশান মাহানামা আগামী দুই দিনের মধ্যে একটি শুনানি পরিচালনা করবেন এবং ফখর এই অভিযোগ মোকাবিলা করবেন।

ঘটনাটি ঘটে করাচির রান তাড়ার শেষ ওভারের শুরুতে। অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ও ফখরের হাত হয়ে বল বোলার হারিস রউফের হাতে যাওয়ার পর আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি সেটি পরীক্ষার জন্য চেয়ে নেন। এরপর ফয়সাল অপর আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন, এবং বলটি টেম্পারিং বা বিকৃত করা হয়েছে বলে মনে করে তারা বলটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন।

আম্পায়াররা লাহোরকে ৫ রান জরিমানা করেন, ওই সময় করাচি ব্যাটিংয়ে থাকায় তাদের স্কোরবোর্ডে তা যোগ করা হয়। শেষ ওভারে করাচির ১৪ রান দরকার থাকলেও এরপর তা ৯ রানে নেমে আসে। যা রউফের প্রথম দুই বল থেকেই তুলে নেন আব্বাস আফ্রিদি।

পিএসএল প্লেয়িং কন্ডিশনের ৪১.৩ ধারা অনুযায়ী আম্পায়াররা ‘বারবার এবং অনিয়মিতভাবে বল পরীক্ষা’ করতে পারেন। ৪১.৩.৫.৩ ধরায় বলা আছে, বলের আকৃতি পরিবর্তনের জন্য দায়ী খেলোয়াড় বা খেলোয়াড়দের শনাক্ত করা সম্ভব হলে ব্যাটিং পক্ষকে ৫ পেনাল্টি রান দেওয়া হবে।

শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফকেও দায়ী মনে করছেন কেউ কেউ
পিসিবি

ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লাহোর অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদিকে পেনাল্টি রানের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘আমরা দেখব (আম্পায়াররা কী বলেন)’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে এআরওয়াই নিউজের টকশোতে সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী বলেন, নিশ্চিতভাবে টেম্পারিং হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমলও ফখর দায়ী বলে জানান। তিনি বোলার রউফ ও অধিনায়ক হিসেবে শাহিনকেও দায়ী করে বলেন, ‘শুধু ফখর জামানই নয়, এই বল টেম্পারিংয়ের জন্য অধিনায়ক শাহিন এবং হারিস রউফও দায়ী। তারাও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।’

আরও পড়ুন