ইসরায়েলের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে কোচকে সমর্থন আয়ারল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর
আয়ারল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসন মন্তব্যটা করেছিলেন গত সপ্তাহে। ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) তার কড়া জবাব দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর হালগ্রিমসনের পাশে দাঁড়ালেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন।
উয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে স্কোয়াড ঘোষণায় সংবাদ সম্মেলনে হালগ্রিমসন বলেছিলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, তাদের সঙ্গী হয়ে নয়।’ আইএফএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া জবাবে হালগ্রিমসনের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও মূর্খতা’ বলে আখ্যা দেয়।
কিন্তু নিজেদের জাতীয় দলের কোচের সমর্থনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এমন মন্তব্য ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্টিন সাংবাদিকদের বলেন, আইএফএর এই মন্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত।
নেশনস লিগে ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। হালগ্রিমসনের সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আইএফএর পোস্টে বলা হয়, ‘বিশ্ব এবং মানবকল্যাণের অগণিত ক্ষেত্রে অবদান রেখে ইসরায়েলের অর্জনের ঝুলিতে বেশ কিছু নোবেল পুরস্কার রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আইরিশ কোচের মূর্খতা, অজ্ঞতা ও ভণ্ডামির কোনো প্রতিষেধক আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। আমরা অজ্ঞতা, ভণ্ডামি আর মূর্খতার সঙ্গে খেলছি না; বরং যে কোচ এগুলো লালন করেন, আমরা তাঁর বিপক্ষেই খেলছি।’
কথার এই লড়াইয়ে যোগ দিয়ে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এগুলো গ্রহণযোগ্য মন্তব্য নয়। ইসরায়েলের এসব প্রত্যাহার করা উচিত। বিশ্ব যা জানে এবং যা বোঝে, ইসরায়েল তা অস্বীকার করে যেতে পারে না।’
হালগ্রিমসনের মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্টিন গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ দুটি ঘিরে দেশটির ভেতরেও বিতর্ক চলছে। ইতিমধ্যে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলাচিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। গত সোমবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। ম্যাচ দুটির আগে দেশটির বিভিন্ন স্থানে আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমর্থন মেলেনি।
এফএআই জানিয়েছে, ম্যাচ দুটি আয়োজন করা ছাড়া তাদের খুব বেশি বিকল্প নেই। ম্যাচ বাতিল করলে ক্রীড়া ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে।
৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের নির্ধারিত হোম ম্যাচটি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ডাবলিনের অ্যাভিভা স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে সার্বিয়ার বাক্কা টোপোলায় নেওয়া হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি, যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের হোম ম্যাচ, সেটিও নিরপেক্ষ ভেন্যু হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হবে।
ফিলিস্তিনের প্রতি আয়ারল্যান্ডের সমর্থন অনেক দিনের। ২০২৪ সালে স্পেন ও নরওয়ের সঙ্গে আয়ারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। গাজা যুদ্ধেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে ডাবলিন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর এই পাল্টা হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
তবে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা চালানোর অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। গাজায় নিজেদের এই সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে দাবি করে আসছে দেশটি।