ম্যাক আলিস্টারকে কি লিভারপুল রাখতে চায় না, কোথায় যেতে পারেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার

লিভারপুলের এই ক্যাপ আর কত দিন মাথায় দেবেন ম্যাক অ্যালিস্টার?রয়টার্স

অ্যানফিল্ডের প্রেস কনফারেন্স কক্ষে সেদিন কথাগুলো হয়তো মনের একদম গহিন থেকেই বেরিয়ে এসেছিল।

বুয়েনস এইরেসের বিমানবন্দরে নেমে যে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কথা বললেন, তাঁর মধ্যে সেই আবেগ আবার কিছুটা কম। এবার অনেক বেশি পেশাদার। লিভারপুলে নিজের চুক্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলে সপ্তাহ দুয়েক আগে আলোচনায় এসেছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। বলেছিলেন, ২০২৮ পর্যন্ত বর্তমান চুক্তির পর নতুন প্রস্তাব না পেয়ে তিনি ‘একটু কষ্ট পেয়েছেন’। সেই কথার রেশ এখনো বাতাসে। তবে এবার সুর বদলেছে। তাঁর নিজের ভাষায়, ওই কথাগুলো এসেছে ‘আবেগ’ থেকে, ক্লাবকে দোষারোপ করার জন্য নয়।

ঘটনার শুরু এই মাসের শুরুতে। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বসেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। সেখানে জানান, সতীর্থ রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও দমিনিক সোবোসলাই নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পেয়েছেন দেখে তাঁর মনে একটু খচখচানি আছে। তিনজনই তো একই সময়ে, ২০২৩ সালে, লিভারপুলে এসেছেন। ‘কিন্তু আমি পাইনি’—কথাটা যেন বেশি বাজছিল তাঁর কণ্ঠে।

ওটা আবেগের জায়গা থেকে বলা। ক্লাবকে বিচার করার জন্য নয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তো ওদেরই। সেটাই স্বাভাবিক।
ম্যাক অ্যালিস্টার, মিডফিল্ডার, লিভারপুল
চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল পাওয়ার পর ম্যাক অ্যালিস্টার
রয়টার্স

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার তখন আরও জানিয়েছিলেন, আলোচনার সময় তাঁর এজেন্টকে ক্লাব স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এখন ‘চুক্তি নবায়নের অবস্থায় নেই’। গ্রীষ্মের দলবদলে অ্যানফিল্ড ছাড়ার সুযোগও নাকি ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে সেই বক্তব্যে একটা চাপ তৈরির গন্ধ ছিল। ঠিক যেমনটা ২০২৫ সালে মোহাম্মদ সালাহ করেছিলেন।

দুই সপ্তাহ পর দৃশ্যপট বদলেছে। জাতীয় দলের ডাকে দেশে ফিরেছেন ম্যাক অ্যালিস্টার। বিমানবন্দরে নামতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি। সেখানে এসে আগের কথাগুলোর ব্যাখ্যা দিলেন অন্য সুরে, ‘সংবাদ সম্মেলনে ওরা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করছিল। আমি যা বলেছি, সেটা ভেতর থেকে এসেছে।’ তাঁর দাবি, ‘ওটা আবেগের জায়গা থেকে বলা। ক্লাবকে বিচার করার জন্য নয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তো ওদেরই। সেটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন

পরিস্থিতি অবশ্য বদলায়নি। ম্যাক অ্যালিস্টার এখনো লিভারপুলের খেলোয়াড়। চুক্তি আছে পরের মৌসুম পর্যন্ত। আগেই বলেছিলেন, ‘শেষ দিন পর্যন্ত আমি লিভারপুলের জন্য শতভাগ দেব।’ সেই অবস্থানেই আছেন। নতুন চুক্তি চান, কিন্তু না পেলেও মেনে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি যেন তৈরি করে ফেলেছেন।

‘আশা করি আরও অনেক বছর থাকব,’ বললেন তিনি, ‘তবে যদি দুই বছরই হয়, সেটাও ঠিক আছে। আমি উপভোগ করব। পরিবার নিয়ে উপভোগ করব। কারণ, এটা বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর একটি।’

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের বিপক্ষে সতীর্থদের সঙ্গে গোল উদ্‌যাপন ম্যাক অ্যালিস্টারের
রয়টার্স

লিভারপুলের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও দমিনিক সোবোসলাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি দেওয়া আর ম্যাক অ্যালিস্টারের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া এক নয়। কারণ, চার বছর পর যখন তাদের চুক্তির শেষ মৌসুম আসবে, তখনো তাঁদের বয়স ৩০ হবে না। অর্থাৎ প্রয়োজনে বিক্রি করে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

ম্যাক অ্যালিস্টারের ক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরেই ৩০ বছরে পা দেবেন। দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তি মানে তখন বাজারমূল্য কমার ঝুঁকি। ক্লাবও মনে করে গত মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্সও এমন কিছু নয়, যা গ্রাভেনবার্চ বা সোবোসলাইয়ের মতো বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করে বসতে পারে।

আরও পড়ুন

সালাহর উদাহরণও সামনে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতনের চুক্তি পেয়েও ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি মিসরীয় ফরোয়ার্ড। এক বছরের মধ্যেই বিদায়। লিভারপুল তাই এবার সাবধানে হাঁটতে চায়। তাই যদি নতুন চুক্তি না হয়, আগামী গ্রীষ্মে ম্যাক অ্যালিস্টারকে বিক্রি করাই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান।

সম্ভাব্য গন্তব্যও আছে  ম্যাক অ্যালিস্টারের। রিয়াল মাদ্রিদ অনেক দিন ধরেই একজন ডিপ-লাইং পাসিং মিডফিল্ডার খুঁজছে। ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রতি তাদের আগ্রহের কথা আগেও শোনা গেছে। পিএসজিও ভাবতে পারে, ফাবিয়ান রুইজের বিকল্প হিসেবে। রুইজের তো এই মৌসুমেই ৩১ চলছে।

২০২৩ সালে লিভারপুলে এসেছেন ম্যাক অ্যালিস্টার
রয়টার্স

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে থাকাও অসম্ভব নয়। ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য এই গ্রীষ্মেই এলিয়ট অ্যান্ডারসন, আয়ুব বুয়াদ্দি আর এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিয়ে মিডফিল্ডের জায়গা ভরাট করেছে। ফলে তাদের দরজা প্রায় বন্ধ।

চেলসির দরজা খোলা। ফার্নান্দেজকে সিটিতে হারানোর পর এখনো উপযুক্ত বিকল্প পায়নি তারা। মোনাকোর সঙ্গে লামিন কামারার চুক্তিও ভেস্তে গেছে। মজার ব্যাপার, সেই কামারার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে লিভারপুল। হয়তো নতুন, কম বয়সী বিকল্প খোঁজার পথেই হাঁটছে ক্লাবটি। আর তখন অ্যানফিল্ডে ম্যাক আলিস্টারের গল্পটা কোন বাঁক নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।

আরও পড়ুন