চার থেকে ছয় মাস নিষিদ্ধ হতে পারেন সেনেগালের খেলোয়াড়েরা, বিশ্বকাপে কি খেলতে পারবেন

কাপ অব নেশনস ফাইনালে মরক্কো ও সেনেগালের মধ্যে ম্যাচে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়এএফপি

মুহূর্তের উত্তেজনায় মানুষ বড় ভুল করে বসে। সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও তেমন কিছুই করেছেন। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফাইনালে নিজের দলের বিপক্ষে রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত থিয়াও হজম করতে পারেননি। তাৎক্ষণিকভাবে দলকে মাঠ ছেড়ে আসার নির্দেশ দেন। সাদিও মানে বাদে বাকি খেলোয়াড়েরা কোচের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। পরে সেনেগাল দল মাঠে ফিরে শেষ পর্যন্ত নেশনস কাপের চ্যাম্পিয়ন হলেও বিতর্ক এড়াতে পারেনি। সম্ভবত বড় ধরনের শাস্তিও এড়াতে পারবে না সেনেগাল।

অনেকের চোখেই থিয়াও এমন কাজ করেছেন, যেটা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ‘অসম্মানজনক’। শুধু সেনেগাল দলের এই কাণ্ড নয়, রাবাতে প্রিন্স আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান সেনেগালের সমর্থকেরা। ইউরোপের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কড়া শাস্তি পেতে পারেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁদের খেলা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সেনেগাল দল, তাদের সমর্থক এবং তাদের স্টাফরা মিলে ফাইনালে যে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছেন, সে জন্য দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ইউরো জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত কোচ ও খেলোয়াড়েরা চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে পারেন। অর্থাৎ এই শাস্তি হলে অনেকেরই বিশ্বকাপে খেলা হবে না। যুক্তরাস্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল।

সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও
এএফপি

ফাইনাল শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিবৃতি দেন। চ্যাম্পিয়ন সেনেগালকে তিনি অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিবৃতিতে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা মাঠে ও গ্যালারিতে অগ্রহণযোগ্য কিছু দৃশ্য দেখেছি। কিছু সমর্থক, পাশাপাশি কয়েকজন সেনেগালিজ খেলোয়াড় ও স্টাফ সদস্যের আচরণের আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই। এভাবে মাঠ ত্যাগ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, আর সহিংসতা আমাদের খেলায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, এটি একেবারেই অনুচিত।’

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজকের ভয়াবহ দৃশ্যগুলোকে নিন্দা জানানো আবশ্যক এবং এগুলো কখনোই পুনরায় যেন না ঘটে। এ ধরনের ঘটনার ফুটবলে জায়গা নেই এবং আমি আশা করি, সিএএফের সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ে শুরু হয় নাটকীয়তা। ৯৮ মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ফাউলের শিকার হলে রেফারি জ্যাকস এনদালা পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এর কিছুক্ষণ আগেই ইসমাইলা সারের গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। এরপর নিজেদের বিপক্ষে পেনাল্টি দেখে দলকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেন তিনি। এমন অচলাবস্থায় খেলা ১৭ মিনিট বন্ধ থাকলেও সেনেগালিজ তারকা মানে মাঠে থেকে সতীর্থদের খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সেনেগালের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফেরার পর খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে সেনেগালের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন পাপে গেয়ে।

আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিএএফ) জানিয়েছে, ফাইনালে বিশৃঙ্খলা তৈরির ঘটনায় ‘দোষী’দের ‘যথাযোগ্য শাস্তি’ দেওয়া হবে।

সিএএফ এ ঘটনার দায় সরাসরি মরক্কো কিংবা সেনেগালের ওপর চাপায়নি। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিএএফ ম্যাচে অশোভন আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়, বিশেষ করে যেগুলো রেফারিদের দল এবং আয়োজকদের যাঁরা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। সিএএফ সব ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠাবে।’

আরও পড়ুন