পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নেমেছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের বিভিন্ন সময় ঘুরেফিরে স্কোয়াডের প্রায় সব খেলোয়াড়কেই খেলিয়েছেন দুই কোচ। তাও, রিয়াল মাদ্রিদ পিছিয়ে ছিল একটু। করিম বেনজেমা, দানি কারভাহালের মতো খেলোয়াড়েরা ছিলেন না যে! করিম বেনজেমা না থাকার কারণে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এডেন হ্যাজার্ড। হ্যাঁ, সেই হ্যাজার্ড, বিভিন্ন চোটে চোটে গত তিন বছর ধরে জর্জরিত থাকার পর এবার যিনি উঠেপড়ে লেগেছেন কোচের কাছে নিজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য।

একদিকে আদর্শ স্ট্রাইকারহীন রিয়াল, আরেক দিকে রাফিনিয়া, লেভানডফস্কি, দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া বার্সেলোনার নতুন আক্রমণভাগ। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রথম থেকেই রিয়ালের রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে তটস্থ রেখেছে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার ক্রমাগত প্রেসিংয়ে খেই হারিয়ে রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক এদের মিলিতাও ম্যাচের ২৭ মিনিটে ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল তুলে দেন বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রাফিনিয়ার পায়ে। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে বেগ পেতে হয়নি লিডস ইউনাইটেড থেকে এই মৌসুমেই দলে আসা এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে।

default-image

বার্সার জার্সি গায়ে আজই প্রথম অভিষেক হয়েছে লেভানডফস্কির। জার্সির নম্বর দেখে দর্শকেরা ধন্দে পরে গেলেও বল পায়ে বায়ার্নের লেভাকেই দেখেছে লাস ভেগাসের ক্লাসিকোপ্রেমীরা। শুরু থেকেই গোল করার বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার, গোল আসেনি যদিও। বার্সার হয়ে গোলমুখে ম্যাচের প্রথম শটটা লেভানডফস্কিই মেরেছিলেন। রিয়ালের ভাগ্য খারাপ, একটুর জন্য গোল পায়নি তারাও, ১৭ মিনিটে ভালভের্দের শট জালে না জড়িয়ে বার কাঁপিয়ে ফেরত আসে।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য ক্রুস, মদরিচ, মেন্দি, কাসেমিরো সবাইকেই মাঠে নামিয়েছিল রিয়াল। ওদিকে অগ্রগামিতা ধরে রাখার জন্য লেভানডফস্কি, ফাতিদের জায়গায় মাঠে নেমেছিলেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ফ্র্যাঙ্ক কেসিরা। দ্বিতীয়ার্ধের রাফিনিয়া, বুসকেতস, পেদ্রিদেরও তুলে নেওয়া হলে আস্তে আস্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় রিয়াল। লাভ হয়নি তাতে। উল্টো শেষদিকে কেসি, দেম্বেলেদের একাধিক শট আটকে কোর্তোয়া রিয়ালকে বড় লজ্জার হাত থেকেই বাঁচিয়েছেন।

default-image

ম্যাচের আগে রিয়ালকে ট্রল করে লাস ভেগাসে ব্যানার উন্মোচন করেছিল বার্সেলোনা। ব্যানারে লাপোর্তার একটি ছবি ভেসে ওঠে, সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষায় কিছু লেখাও। সেই লেখার বাংলা মানে দাঁড়ায়, ‘দুশ্চিন্তা কোরো না মেরেঙ্গুস (রিয়াল মাদ্রিদ)। ভেগাসে যা–ই ঘটুক, সেটা ভেগাসেই থাকবে।’ রিয়াল যদি এই ম্যাচে জিতত, তাহলে ব্যানারের জবাবটা মাঠের খেলাতেই দিতে পারত।

সেটা আর হলো কোথায়!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন