রোনালদিনিওকে জাল পাসপোর্ট ধরিয়ে দেওয়া সেই নারী অবশেষে কারাগারে

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনিওএএফপি

মাঠে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ ছিল পুরো ফুটবল–দুনিয়া। এক চিলতে হাসি আর সাম্বার ছন্দে মুগ্ধ করে রাখতেন গ্যালারি। অথচ সেই জাদুকর কি না ফেঁসে গিয়েছিলেন ‘নকল’ পাসপোর্টের এক গোলকধাঁধায়! ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনিওকে সেই বিতর্কিত জাল পাসপোর্ট সরবরাহ করার অভিযোগে অভিযুক্ত দালিয়া লোপেজকে শেষ পর্যন্ত গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছেন প্যারাগুয়ের একটি আদালত।

৫৫ বছর বয়সী এই নারী ছয় বছর ধরে পলাতক ছিলেন। ২ এপ্রিল রাজধানী আসুনসিওন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে আদালত তাঁকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করে আসুনসিওন থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের এমবোসকাডা শহরের একটি মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০২০ সালে জাল পাসপোর্ট নিয়ে প্যারাগুয়েতে প্রবেশ করে জেলে গিয়েছিলেন রোনালদিনিও
এএফপি

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের মার্চে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তার এক দাতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্যারাগুয়েতে গিয়েছিলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী রোনালদিনিও। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই ও এজেন্ট রবার্তো ডি আসিস মোরেরা। কিন্তু পৌঁছানোর দুই দিন পরই ঘটে বিপত্তি। প্যারাগুয়ের পুলিশ তাঁদের আটক করে। অভিযোগ—তাঁরা জাল পাসপোর্ট এবং জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দেশটিতে ঢুকেছেন।

আরও পড়ুন

এই ঘটনায় রোনালদিনিওকে এক মাস জেল খাটতে হয়েছিল। এরপর ১৬ লাখ ডলার মুচলেকা দিয়ে আসুনসিওনের এক হোটেলে চার মাস গৃহবন্দী ছিলেন দুই ভাই। দীর্ঘ পাঁচ মাস প্যারাগুয়েতে আটক থাকার পর শেষ পর্যন্ত মুক্তি পান তাঁরা। কিন্তু রহস্যের জট পুরোপুরি খোলেনি আজও।

প্যরাগুইয়ান আদালতে রোনালদিনহো।
রয়টার্স

মজার ব্যাপার হলো, ব্রাজিলিয়ান নাগরিকদের প্যারাগুয়েতে প্রবেশ করতে কোনো পাসপোর্টেরই প্রয়োজন হয় না। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই চলে। তবে কেন রোনালদিনিওরা জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করতে রাজি হলেন, সেই রহস্যের কূলকিনারা এখনো হয়নি। প্রসিকিউটরদের দাবি, দালিয়া লোপেজই এই জাল নথিপত্র তৈরির মূল কারিগর এবং একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন