চেলসির নতুন কোচ লিয়াম রোজনিয়র
বেশ কজনের নামই শোনা যাচ্ছিল। তবে অনেক হিসাব–নিকাশ মিলিয়ে লিয়াম রোজনিয়রই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত হলোও তা–ই। ফরাসি ক্লাব স্ত্রাসবুর্গে ডাগআউটে বেশ ভালো সময় কাটিয়ে এবার রোজনিয়র পা রাখছেন স্টামফোর্ড ব্রিজে। এনজো মারেসকার উত্তরসূরি হিসেবে চেলসি কোচের হট সিটে বসতে যাচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ কোচ।
স্ত্রাসবুর্গে সর্বশেষ ১৮ মাস বলা যায় এখন পর্যন্ত কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন রোজনিয়র। সেখান থেকে বিদায় নেওয়াটা তাই ভীষণ আবেগের হলেও চেলসির মতো ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। রোজনিয়রের ভাষায়, এটা শুধু একটা চাকরি নয়, বরং এক বিরাট ‘সম্মান’।
স্ত্রাসবুর্গে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে রোজনিয়র কোচ হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন। মার্সেলো বিয়েলসার ঘরানার আক্রমণাত্মক ফুটবল আর তরুণদের গড়ে তোলার দক্ষতাই তাঁকে চেলসির মালিক টড বোয়েলির নজরে এনেছে। ফরাসি এই ক্লাবকে ঘিরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছিলেন, একেবারে সর্বশেষ ম্যাচটা পর্যন্ত। তবে লন্ডন থেকে আসা সেই একটি ফোন কল সব বদলে দিয়েছে।
রোজনিয়র নিজেই বললেন, ‘আমি স্ত্রাসবুর্গের শেষ ম্যাচটা নিয়ে মগ্ন ছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব, যারা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব আসে। এমন একটা ক্লাবের কোচ হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’
আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পাশাপাশি রোজনিয়রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে একটা আবেগও—পরিবার। ফ্রান্সে থাকার কারণে দীর্ঘদিন সন্তানদের থেকে দূরে ছিলেন। চেলসির দায়িত্ব নেওয়া মানেই নিজের শহরে ফেরা। রোজনিয়র অকপটেই বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ। চেলসির কোচিং করানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে আমি বাড়ি ফিরতে পারব, বাচ্চাদের দেখতে পারব। তাদের ছেড়ে থাকাটা আমার জন্য বড় এক ত্যাগ ছিল।’
এর আগে ১ জানুয়ারি চেলসির কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হন এনজো মারেসকা। চেলসিকে ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা কনফারেন্স লিগও জেতালেও মারেসকার সঙ্গে ক্লাবটির মালিকপক্ষের সম্পর্ক বিষিয়ে উঠেছিল ইদানীং। এর জের ধরে সম্প্রতি বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে যেতে রাজি হননি এই ইতালিয়ান কোচ। এরপরই তাঁকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দেয় চেলসি।
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রোজনিয়র তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০২২ সালে ডার্বি কাউন্টির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে। পরে ওই বছরই হাল সিটির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখান থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি চেলসির মালিকপক্ষেরই প্রতিষ্ঠান ব্লু-কো–এর মালিকানাধীন ফরাসি ক্লাব স্ত্রাসবুর্গে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে অন্যতম তরুণ এক দল নিয়ে ফরাসি লিগে স্ত্রাসবুর্গকে সাত নম্বরে টেনে তুলেছেন তিনি। চেলসি কোচের দায়িত্ব পাওয়াটা সেই সাফল্যের পুরস্কারই বলা যায়।