অসন্তুষ্টি নিয়েই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষ ফুটবল লিগ
অধিকাংশ ক্লাব প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আছে বড় দুশ্চিন্তায়। ৩ সেপ্টেম্বর দলবদল শেষ হলেও অনেক ক্লাবই ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারেনি। বেশ কয়েকটি ক্লাবের বিদেশি খেলোয়াড়েরাও এখনো আসেননি। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগ দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ফেডারেশন কাপও।
ঘরোয়া মৌসুমের সূচি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আগেই নির্ধারণ করেছিল। সূচি অনুযায়ী, ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ, ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ এবং ২৮-২৯ আগস্ট লিগের প্রথম রাউন্ড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস তখন ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞায় ছিল, আবাহনীর নিষেধাজ্ঞাও ওঠে ১৭ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ে তাই মাঠে গড়ায়নি কোনো প্রতিযোগিতাই।
পরে চ্যালেঞ্জ কাপ বাতিল করে ১২ সেপ্টেম্বর নতুন সূচি ঘোষণা করে বাফুফে। সূচি প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই মাঠে নামতে হচ্ছে বলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ প্রায় সব ক্লাবেরই।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়নি, আসলে ফিকশ্চারই দিয়েছে কদিন আগে! বিদেশি খেলোয়াড়দের এখনো আনতে পারিনি। তারপরও কী করব, অংশ তো নিতেই হবে।’
রহমতগঞ্জের সভাপতি টিপু সুলতানের একই কথা, ‘মাত্র ছয় দিন অনুশীলন করেছে খেলোয়াড়েরা। আমরা ভেবেছিলাম আসিয়ানের পর লিগ শুরু হবে। সে জন্য বিদেশিদেরও আনা হয়নি। তারা আগামী সপ্তাহে আসবে। এখন তাদের ছাড়াই খেলব।’
আজ লিগের প্রথম দিনে কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম সিটি এফসি, গাজীপুরে পুলিশের প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ, চাঁদপুরে ইয়ংমেনস–ওয়ান্ডারার্স, গোপালগঞ্জে খেলবে ব্রাদার্স–সিটি ক্লাব এবং মানিকগঞ্জে পিডব্লুডির প্রতিপক্ষ আবাহনী।
একই সমস্যায় আবাহনী লিমিটেডও। দলের কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘যেহেতু ফিকশ্চার হয়ে গেছে, অংশ তো নিতেই হবে। আমার চারজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের ক্যাম্পে। বিদেশ খেলোয়াড়ও আসেনি। জানি না কীভাবে খেলব!’
প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ আছে খেলোয়াড়দেরও। চট্টগ্রাম সিটি ক্লাবের ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান বলেন, ‘আজ (গতকাল) মাত্র অনুশীলন শুরু করেছি। এত অল্প অনুশীলন দিয়ে খেলা যায় না।’
প্রস্তুতির ঘাটতির সঙ্গে কোনো কোনো ক্লাব পড়তে পারে খেলোয়াড়–সংকটেও। এবার জাতীয় দলের খেলার মধ্যে চলবে ঘরোয়া ফুটবল, যা দেশের ফুটবলে বিরলই। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আসিয়ান কাপ। ওই সময়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকবেন বিভিন্ন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ অনেক খেলোয়াড়। ফলে তাদের ছাড়াই ম্যাচ খেলতে হবে ওই ক্লাবগুলোকে। এ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ক্লাবগুলোর মধ্যে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা নিজেদের ৯ ফুটবলারকে ১৪ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল তারা। খেলোয়াড়েরা ফিরলে লিগের প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে—এমন বক্তব্য ছিল ক্লাবটির। পরে বাফুফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করে মোহামেডান। শুরুতে তাদের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল, এখন সেটি হবে ৫ অক্টোবরের পর।
তাতে কিছুটা স্বস্তিতে মোহামেডান। ক্লাবের ডিরেক্টর ইন চার্জ লোকমান হোসেন বলেন, ‘জাতীয় দলে আমাদের ৯ খেলোয়াড়। আমরা তাই ফিকশ্চারে পরিবর্তন চেয়েছি। বাফুফে বলেছে, আমাদের ম্যাচ ৫ অক্টোবরের পর দেবে। এটা হলে খেলতে সমস্যা হবে না।’
ওদিকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী প্রশ্ন তুলেছেন সূচি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে, ‘বসুন্ধরার জন্য এতবার পেছাল। আমরা ১০টি ক্লাব আবেদন করলাম, আমাদের ডাকলও না! পাঁচ দিন অনুশীলন করে কী আর খেলব জানি না।’
পিডব্লুডি স্পোর্টস ক্লাবের টিম ম্যানেজার ইফতেখারুল ইসলামও একই সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, ‘১৩ তারিখ ফিকশ্চার দিয়ে ১৮ তারিখ খেলা সত্যি কঠিন। বিদেশি সবাই আসেনি। তারপরও খেলতে তো হবেই।’
একনজরে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষ লিগে খেলা ১০টি ক্লাব বাফুফের কাছে চিঠি দিয়ে মৌসুমের সূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। পরোক্ষভাবে লিগ পেছানোরই দাবি ছিল ওই চিঠিতে। তবে বাফুফে শেষ পর্যন্ত ঘোষিত সূচিতে আর পরিবর্তন করেনি।
এবারের লিগে কিছু নতুনত্বও দেখা যাবে। আগেরবার একটি ক্লাব সর্বোচ্চ পাঁচজন সাফ অঞ্চলের ফুটবলারকে ‘স্থানীয়’ হিসেবে নিবন্ধন করতে পেরেছে। এবার স্থানীয়দের সুযোগ বাড়াতে সেই কোটা কমিয়ে তিনজন করা হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, লিগে এবার দলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩টি। এর আগে সর্বশেষ ১৩ দলের লিগ হয়েছিল ২০১০-১১ মৌসুমে।
১৩ দলের লিগে খেলা হবে সাত ভেন্যুতে। নতুন ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম। এই মাঠকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করবে ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ফেডারেশন কাপের সাতটি ম্যাচ হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে।