ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিতে চিন্তিত ইউরোপিয়ান ফুটবলের নেতারা, আলোচনায় বিশ্বকাপ বয়কট
যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ডের দখল চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির দখল প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় জার্মানিসহ আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এই অবস্থায় কিছু জার্মান রাজনীতিবিদ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ট্রাম্প এই হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে তাঁরা বিশ্বকাপে অংশ নেবেন কি না!
জার্মানি সরকার অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাজনীতিকদের নেই, বরং সেটি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এবং ফিফার। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকবে জার্মানি সরকার।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষাসহ আগ্রাসী অবস্থান এ প্রতিযোগিতার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার বলেছেন, যদি ট্রাম্প হুমকি বাস্তবায়ন করেন ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
জার্মান দৈনিক ‘অগসবুর্গার আলগেমাইনে’কে কিসেভেটার বলেন, এটা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারত্বের যে অবসান ঘটবে, এ কথা পরিষ্কার করে বলতে হবে।
শাসক জোটের শরিক দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)-এর কয়েকজন নেতাও বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি আলোচনায় রাখা উচিত।
জার্মান ক্রীড়াবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ানে শেন্ডারলাইন অবশ্য এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, বড় ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া বা বয়কটের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার এখতিয়ার। রাজনীতিকদের নয়। তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) ও ফিফা।
জনমত জরিপ সংস্থা ইনসার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তবে ৪৭ শতাংশ জার্মান নাগরিক বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে, আর ৩৫ শতাংশ বিপক্ষে। জার্মানি চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে এবং ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে। এদিকে ফ্রান্স সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে তারা ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের করার বিপক্ষে। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা বলেছেন, ‘বর্তমানে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কোনো আগ্রহ নেই দারুণ এই প্রতিযোগিতাটি বয়কট করার।’
সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছিল বিশেষভাবে তৈরি ফিফা শান্তি পুরস্কার।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ইউরোপীয় ফুটবল নেতাদেরও। এরই মধ্যে ক্রীড়া দুনিয়ায় এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনাও করেছেন তাঁরা। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, গত সোমবার বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ২০ জন ফুটবল ফেডারেশন প্রধানের সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড সংকট নিয়ে আলোচনা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে হয়নি, বরং হাঙ্গেরির ফুটবল ফেডারেশনের ১২৫তম বার্ষিকী উদ্যাপনের আয়োজনের ফাঁকে এটি প্রাসঙ্গিকভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।
কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মনে করছেন, যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উয়েফার নেতৃত্বে বিশ্বকাপে বয়কট বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রতিবাদী অন্য কোনো বড় পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। তবে ফিফার নেতৃত্ব, যাঁরা ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েছেন, তাঁরা এ মুহূর্তে এমন ঘটনার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন। এর মধ্যেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক উঠেছে। জার্মান রাজনীতিক জার্গেন হাডর্ট বলেছেন, এটি কেবল চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে নেওয়া হবে।
বুদাপেস্টে উপস্থিত ব্যক্তিরা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অধিকাংশ ফুটবল ফেডারেশন সম্ভবত সরকারের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে, তবে কেউ কেউ আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে।