১৯৯৯ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ব্রাজিলের জার্সিতে ৪০ ম্যাচ খেলা জুনিনহো অনেকের চোখেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করায় সর্বকালের সেরাদের একজন। ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিঁওর হয়ে সাতবার লিগ আঁ জেতা সাবেক এই মিডফিল্ডার গার্ডিয়ানে লেখা তাঁর কলামে নেইমারের সমালোচনা করেছেন। ব্রাজিলিয়ানদের সঙ্গে নেইমারের দূরত্ব নাকি ক্রমশ বাড়ছে। কারণ? ব্রাজিলের সর্বশেষ নির্বাচনে নেইমার জইর বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

বলসোনারোকে নেইমার প্রকাশ্যে প্রথম সমর্থন জানান সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। সেই সময় প্রকাশ করা একটি টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার হওয়া গানে ঠোঁট মেলাচ্ছেন নেইমার। ভিডিওটি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দেন বলসোনারো।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোকে নিয়ে প্রচুর বিতর্ক আছে। তাঁর বিপক্ষে নির্বাচনে জয়ী লুলা দা সিলভা বামপন্থী এবং বলসোনারো ডানপন্থী। করোনা মহামারির সময় অব্যবস্থাপনা ও আমাজন বন উজাড় করার অভিযোগের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও আছে বলসোনারোর বিরুদ্ধে।

গত সেপ্টেম্বরে বলসোনারোকে সমর্থন জানাতে গিয়ে নেইমার বলেছিলেন, কাতার বিশ্বকাপে প্রথম গোল তিনি বলসোনারোকে উৎসর্গ করবেন। নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নম্বর ছিল ২২। বিশ্বকাপে দুই হাত উঁচু করে ‘২২’ দেখাবেন বলে জানান। একপর্যায়ে নেইমার এমনও বলেছিলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে বলসোনারো পাশে ছিলেন। নির্বাচনে তাঁর হারের পর দুঃখও প্রকাশ করেন নেইমার।

বলসোনারোকে নেইমারের সমর্থন দেওয়া নিয়ে কলামে জুনিনহো লিখেছেন, ‘ব্রাজিলিয়ানরা দেখেছে, তাদের অধিনায়ক ও তারকা খেলোয়াড় নেইমার ৩০ মিলিয়নের বেশি ক্ষুধার্ত ব্রাজিলিয়ান এবং খাদ্য নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ১২০ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ানের ওপর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। সমাজতন্ত্র হুমকি হয়ে না দাঁড়ালেও সে এই কল্পিত লড়াইয়ে বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছে।’

জুনিনহো তাঁর কলামে সোজাসাপটাই লিখেছেন, ‘সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা সান্তোসের সাবেক এই খেলোয়াড় সাফল্য পেলেও (দেশ ও দেশের মানুষ) শেকড়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে দেশের বেশির ভাগ লোকের সমর্থন প্রয়োজন তার। ব্যাপারটা দুঃখজনক।’

তবে ব্রাজিলিয়ানরা ফুটবলপাগল জাতি। বলার অপেক্ষা রাখে না, কাতার বিশ্বকাপে নেইমার ভালো করলে ব্রাজিলিয়ানরা নিশ্চিতভাবেই তাঁর ওপর থেকে সব রাগ-ক্ষোভ ভুলে যাবেন। এখন দেখার বিষয়, নেইমার কী করতে পারেন!