ট্রাম্পের ফোনে বদলে গেল লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত, নিশ্চুপ ফিফা

বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের পেছনের অংশে আঘাত করেন বালোগানএএফপি


ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন নতুন বিতর্কে টালমাটাল। বসনিয়ার ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখলেও ফিফা এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। ফলে আগামীকাল সকাল ৬টায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারছেন এই স্ট্রাইকার—আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।


সূত্র বলছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান ট্রাম্প। এরপরই আসে ফিফার এই ব্যতিক্রমী রায়। এই বিতর্কিত ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে ফিফার নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার সক্ষমতা নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের একাধিক অনুরোধের পরও কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

যা ঘটেছিল মাঠে
বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল করেন বালোগান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বুট দিয়ে আঘাত করার দায়ে ভিএআর পর্যালোচনার পর তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, এটি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল না।


ফিফার বিবৃতি
ফিফা তাদের বিবৃতিতে জানায়, শৃঙ্খলাবিধির ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক বছরের অবেক্ষাধীন মেয়াদে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিত রাখা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা তখন কার্যকর হবে, নতুন অপরাধের জন্য আলাদা শাস্তির পাশাপাশি। তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা ফিফা দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান
রয়টার্স
আরও পড়ুন

ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস, বেলজিয়ামের ক্ষোভ
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি বড় অবিচার শোধরানো’ বলে পোস্ট করেছেন।


তবে বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (আরবিএফএ) এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, ফিফার নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধির ৬৬.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লাল কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে অবধারিতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার নিয়ম, যা টুর্নামেন্টের এই পর্ব পর্যন্ত সব লাল কার্ডের ক্ষেত্রেই মানা হয়েছে। প্রতিযোগিতার নিয়মাবলির ১০.৫ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরেছে তারা, যেখানে একই নিয়মের কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে। বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া তো বলেই ফেলেছেন, পুরো ব্যাপারটা তাঁর কাছে 'এপ্রিল ফুলের' মতো মনে হচ্ছে।


খেলোয়াড় ও কোচদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র দল সিদ্ধান্তটি মেনে নিলেও ফুটবলাররা নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই প্রথম খবরটি জানতে পারেন। ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক বলেন, প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও পরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। সিয়াটলে সংবাদ সম্মেলনে পচেত্তিনো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ফুটবল–বিশ্বের প্রায় সবাই এটিকে অন্যায্য শাস্তি মনে করছেন এবং অতীতেও এমন স্থগিতাদেশের নজির আছে। এই লাল কার্ড নিয়ে মেক্সিকো ম্যাচের পর প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও। এখন ফ্রান্সও বলছে, তারাও মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন করবে।


অতীতের নজির
ফিফার এ ধরনের সিদ্ধান্ত বদল নতুন নয়। গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শেষ দুটি স্থগিত হওয়ায় বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলোতে খেলতে পেরেছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।