ফাইনালের পথে কার বাধা কেমন

বিশ্বকাপের ফাইনালে কি উঠতে পারবে নেইমারের ব্রাজিলএএফপি

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে গেছে গতকাল, নিশ্চিত হয়ে গেছে শেষ ৩২-এর সূচি। এই প্রতিবেদন যখন পড়ছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা খেলে ফেলেছে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচটাও। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, ১৯ জুলাই মেটলাইফের ফাইনালের দৌড়ে কোন দলের পথটা কেমন হবে? সেখানে আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালের পথে বিছানো অনেক কাঁটা।

আর্জেন্টিনাকে দিয়েই শুরু করা যাক। শেষ ৩২-এ মেসিদের প্রতিপক্ষ এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই চমকে দেওয়া আফ্রিকার এই খুদে দ্বীপদেশ গ্রুপ পর্বে হারেনি একটা ম্যাচেও, ঠেকিয়ে দিয়েছে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে। তারপরও এই বাধা টপকাতে মেসিদের খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সেটা পার হলে শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বা মিসর।

ধরুন, সেটাও পার হলো আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকায় নামগুলো হবে এ রকম—সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, কলম্বিয়া অথবা ঘানা। এই বিশ্বকাপের ফর্ম বিবেচনায় আপনি কলম্বিয়াকে সবার ওপরে রাখতেই পারেন। সেটা হলে ফিরে আসবে ২০২৪ কোপা আমেরিকা ফাইনালের স্মৃতি। সেই ফাইনালের মতো এই ম্যাচও জিতলে আর্জেন্টিনার সামনে সেমিতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল।

মেসির আর্জেন্টিনারও ফাইনালে ওঠার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে
এএফপি

অবশ্য সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে ব্রাজিলের রাস্তা আর্জেন্টিনার মতো এতটা সহজ দেখাচ্ছে না, অন্তত কাগজে–কলমে। শেষ ৩২-এ জাপানের বাধা যদি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টপকে যায়, শেষ ১৬-তে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে আইভরিকোস্ট বা নরওয়ে। হলান্ডরা যেমন খেলছেন, নরওয়ে বড় বাধাই হতে পারে ব্রাজিলের জন্য। সেটা উতরালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষদের সম্ভাব্য যে তালিকা, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের দলকে অবশ্য তার আগে শেষ ৩২-এ পার হতে হবে ডি আর কঙ্গোর বাধা। আর শেষ ১৬-তে ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো বা ইকুয়েডর।

আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড—তিন দলই পড়েছে সূচির একই অর্ধে। যার মানে ফাইনালে আগেই দেখা হয়ে যেতে পারে তাদের। তবে সূচির অন্য অর্ধটা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কঠিন দেখাচ্ছে। এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সকে দিয়েই শুরু করা যাক। শেষ ৩২-এ এমবাপ্পেদের মুখোমুখি সুইডেন। কিন্তু ম্যাচটা জিতলে ফ্রান্সকে খেলতে হতে পারে জার্মানির বিপক্ষে। তার আগে অবশ্য জার্মানদের পার হয়ে আসতে হবে প্যারাগুয়ের বাধা। শেষ ১৬-তে জার্মানি বা ফ্রান্স ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাদের মুখোমুখি হতে পারে, তাদের মধ্যে বড় নাম নেদারল্যান্ডস। অবশ্য নেদারল্যান্ডস আর মরক্কোর প্রায় সমশক্তির শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জিততে পারে যে কেউই। এই দুই দলের লড়াইয়ে জয়ী দল খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা বা কানাডার বিপক্ষে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে আরও ভালো খেলতে হবে
এএফপি

এই অর্ধে অন্য রাস্তাটা আরও কঠিন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল অবশ্য এই কাঁটাভরা রাস্তায় চলে আসার জন্য নিজেদেরই দুষতে পারে। কলম্বিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার আগে তাদের খুব বড় কোনো বাধা ছিল না। গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় এখন নকআউটের প্রথম ম্যাচেই খেলতে হবে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে, যারা গত দুই আসরে সেমিফাইনালে গেছে। ক্রোয়েশিয়ার ফুটন্ত কড়াই থেকে উঠতে পারলে পর্তুগালকে পড়তে হবে জ্বলন্ত উনুনে। কারণ, শেষ ১৬–তে তাদেরকে খেলতে হতে পারে স্পেনের বিপক্ষে। স্পেনের শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, সেই ম্যাচে জিততে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয় ইয়ামালদের।

স্পেন বা পর্তুগালের শেষ ১৬–এর সম্ভাব্য লড়াইয়ের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আবার কিছুটা সহজ প্রতিপক্ষ পাবে। এখন পর্যন্ত সেখানে নামগুলো এমন যুক্তরাষ্ট্র, বসনিয়া, বেলজিয়াম ও সেনেগাল। ফর্মের হিসাবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের তাই সুযোগ আছে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত চলে যাওয়ার।

কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের ভালো সম্ভাবনা আছে ফাইনালে খেলার
এএফপি

যদি ফ্রান্স ও স্পেন নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো জেতে, তাহলে তাদের দেখা হবে সেমিফাইনালে। সেটা অবশ্য বিশ্বকাপ সূচির সময়েই ঠিক হয়েছিল, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে এই দুই দলের শেষ চারের আগে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন, একদিকে স্বপ্নের ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা’ আর অন্যদিকে যদি ‘স্পেন-ফ্রান্স’ সেমিফাইনাল হয়, তাহলে ফাইনালের আগে অন্তত স্পেন ও ফ্রান্সের সঙ্গে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দেখা হচ্ছে না।

স্বপ্নের ফাইনালে আপনি কাকে দেখতে চান, সেই হিসাবটা এবার করে ফেলতে পারেন।

আরও পড়ুন