লরিসকে ডাকছে যে ইতিহাস
খেলোয়াড় হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জেতা বেশ কয়েকজনই আছেন। গোলরক্ষক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়? তা–ও আছেন। ব্রাজিলের গিলমার নেভেস ছিলেন ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপজয়ী দলে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়?
না, একজনও নেই। নেই গোলরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডও। কাতারে আজ দুটি রেকর্ডই লেখা হয়ে যেতে পারে উগো লরিসের নামে। প্রথম অধিনায়ক তো বটেই, প্রথম গোলরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবেও টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে ফেলতে পারেন ফরাসি এই ফুটবলার।
এখন পর্যন্ত টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড আছে শুধু ইতালি ও ব্রাজিলের। ইতালি জিতেছিল ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে, ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে। তবে দুই আসরে দল দুটির অধিনায়ক ছিলেন ভিন্ন দুজন।
ব্রাজিলের ’৫৮ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিলদারালদো বেলিনি খেলেছিলেন ’৬২-তেও। কিন্তু তত দিনে গুরুত্ব হারিয়ে বেঞ্চে বসে যেতে হয়েছে তাঁকে। শিরোপায় আরেকবার হাত বোলানোর সুযোগ পেলেও নেতৃত্বের বাহুবন্ধনী ছিল না।
গোলকিপার-অধিনায়কদেরও কেউ একবারের বেশি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। চার বছর আগে লরিস বিশ্বকাপ হাতে তোলার আগে গোলকিপার-অধিনায়ক হিসেবে একই কীর্তি গড়েছিলেন ইতালির জিয়ানপেইরো কোমবি (১৯৩৪) ও দিনো জফ (১৯৮২) এবং স্পেনের ইকার ক্যাসিয়াস (২০১০)। তাঁদের সঙ্গে যৌথ তালিকায় থাকা লরিসের সামনে এখন রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেওয়ার হাতছানি।
এক সপ্তাহ বাদেই বয়স ৩৬ পূর্ণ হবে লরিসের। নাটকীয় কিছু না ঘটলে আজই বিশ্বকাপে তাঁর শেষ ম্যাচ। এরই মধ্যে ফ্রান্স ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি (১৪৪) আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। এখন শেষবেলায় ডাকছে শিরোপা জয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও শীর্ষে উঠে যাওয়ার রেকর্ড।