default-image

পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি আর ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলই বলতে গেলে গত চার-পাঁচ মৌসুমে ইংল্যান্ডে শিরোপার লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। পাঁচবারের মধ্যে সর্বশেষ দুবারসহ চারবারই শিরোপা গেছে সিটির ঘরে, এক লিভারপুল ছাড়া আর কেউই শিরোপার পথে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলতে পারেনি তাদের।

গত মৌসুমেও যেমন, একেবারে শেষ দিনে হয়েছে শিরোপার নিষ্পত্তি। তা-ও কী নাটকীয়ভাবে! জিততেই হতো, এমন ম্যাচে লিভারপুলের কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডের অধীন অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল সিটি, সেখান থেকে ছয় মিনিটের ঝড়ে ৩ গোলে ম্যাচ আর শিরোপা জিতেছে।

রয় কিনের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলে এবার সিটিকে অত কষ্টও করতে হবে না। গার্দিওলার দাপুটে কৌশলে কেভিন ডি ব্রুইনা, বের্নার্দো সিলভা, ফিল ফোডেনদের মিডফিল্ড গত মৌসুমেও অজস্র সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু সিটি কিছু ম্যাচে ভুগেছে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারার মতো গোলশিকারি বক্সে ছিল না বলে।

সমাধান? বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে জার্মান লিগে ৬৭ ম্যাচে ৬২ গোল করা, গত তিন মৌসুমে ইউরোপে আলো ছড়ানো নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডকে দলে নিয়ে গেছেন গার্দিওলা। তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকেও দলে টেনেছেন।

default-image

প্রথাগত নাম্বার নাইন একজন লিভারপুলও এনেছে—বেনফিকা থেকে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার দারউইন নুনিয়েজকে কিনতে সাড়ে সাত কোটি ইউরোর মতো খরচও হয়েছে ক্লপের দলের। সিটি হলান্ডের পাশাপাশি মাঝমাঠে ক্যালভিন ফিলিপসকে টেনেছে, লিভারপুল ঝুঁকেছে তারুণ্যের দিকে। ফুলহাম থেকে এনেছে ১৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফাবিও কারভালিওকে, অ্যাবারডিন থেকে গেছেন ১৮ বছর বয়সী রাইটব্যাক ক্যালভিন রামসে।

এই দুই দলের সঙ্গে শক্তিতে সমতা আনতে এবার লিগের অন্য দলগুলোও দলবদলে টাকা ঢেলেছে। আন্তোনিও কন্তের অধীন জেগে ওঠা টটেনহাম কেইন-সনদের সঙ্গ দিতে ইন্টার মিলান থেকে এনেছে ইভান পেরিসিচকে, এভারটন থেকে কিনেছে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রিচার্লিসনকে। গত মৌসুমের শুরুতে কয়েক মাস সিটি-লিভারপুলের সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে থাকা চেলসি রাহিম স্টার্লিংকে সিটি থেকে নিয়ে গেছে, আর্সেনাল ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে নিয়ে গেছে সিটি থেকেই।

তবে অন্য দলগুলোর শক্তি বাড়লেও তাদের সিটি-লিভারপুলকে টেক্কা দেওয়ার মতো শক্তিশালী মনে হচ্ছে না কিনের। স্কাই বেটে তাঁর বিশ্লেষণ, ‘আমার মনে হয় না এই ক্লাবগুলো ব্যবধান একেবারে শূন্য করে ফেলতে পারবে। হ্যাঁ, ওরা আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। মান বেড়েছে দলগুলোর, ভালো খেলোয়াড় কিনেছে, তবে (শিরোপার লড়াইয়ে) এখনো লিভারপুল আর ম্যান সিটির বাইরে চোখ যায় না।’

default-image

কিন্তু এই দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ে সিটির হাতেই কেন টানা তৃতীয় লিগ শিরোপা দেখছেন রয় কিন? সহজ ব্যাখ্যা, হলান্ডের উপস্থিতি। সঙ্গে গার্দিওলার কৌশল তো আছেই। কিনের চোখে, ‘ওদের দলটা অসাধারণ খেলোয়াড়ে ভর্তি। অবিশ্বাস্য একজন স্ট্রাইকারকে নিয়ে ওরা আরও শক্তি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সর্বকালের সেরা কোচ পেপ (গার্দিওলা) আছে সেখানে।’

ইউনাইটেডের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী সিটি আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলকে নিয়ে এত উচ্ছ্বাসের মধ্যে ইউনাইটেডকে নিয়েও কথা বলতে ভোলেননি রয় কিন। টেন হাগের অধীন এরই মধ্যে ছোট পাসে গতিশীল আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক দেখিয়েছে ইউনাইটেড, প্রাক্‌-মৌসুমে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ডে লিভারপুলকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না, সেটি নিয়ে শঙ্কা আছে। তবু ইউনাইটেড যে এই মৌসুমে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলবে, এ নিয়ে সংশয় সামান্যই।

কিন্তু সুন্দর ফুটবলে সাফল্যও আসবে? এখন পর্যন্ত দলবদলে এক তরুণ লেফটব্যাক টাইরেল মালাসিয়াকে ছাড়া আর কাউকে কিনতে পারেনি সিটি। আয়াক্সের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর বার্সেলোনার ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

সবকিছুর মধ্যে রয় কিন ধৈর্য ধরতেই বলছেন, ‘নতুন কোচকে দলবদলে খরচ করার মতো অর্থ দেওয়া হবে, এ নিয়ে সংশয় নেই। তিনি কেমন খেলোয়াড় কেনেন, সেটি দেখার বিষয়। চার-পাঁচজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এরই মধ্যে ক্লাব ছেড়েছে, যদিও আমার চোখে তাতে ভালোই হয়েছে। তবে আমার চোখে লিভারপুল আর সিটির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দল নয় ইউনাইটেড, অন্তত এখন পর্যন্ত হয়নি, এটা বলা যায়।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন