বার্সেলোনার কাছে আলভারেজকে বিক্রি করার সম্ভাবনা ‘জিরো’, জানিয়ে দিল আতলেতিকো
সহ্যের বাঁধ কি তবে একেবারে ভেঙে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদের? হুলিয়ান আলভারেজের ভবিষ্যৎ ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা নাটকীয়তার পর অবশেষে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল স্প্যানিশ ক্লাবটি। ক্ষোভ কেবল আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের দিকেই নয়, তাঁর পেছন থেকে সুতা টানা বার্সেলোনার ওপরও।
স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আতলেতিকোর নীতিনির্ধারকেরা সরাসরি দাবি করেছেন, এই ঘোলাটে নাটকের সবচেয়ে বড় বলির পাঁঠা তারা নিজেরাই। আলভারেজকে ভুক্তভোগী বানানোর সব অপচেষ্টা একবাক্যে নাকচ করে দিয়ে ক্লাবের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্ষোভ উগরে দিলেন, ‘খেলোয়াড়কে ভুক্তভোগী হিসেবে সাজানো হচ্ছে। অথচ এই হুলিয়ান–কাণ্ডে আসল ভুক্তভোগী একমাত্র আমরাই।’
শুধু একজন খেলোয়াড় হারানোর আশঙ্কাই নয়, আতলেতিকোর ক্ষোভের শিকড় আরও গভীরে। গত কয়েক মাসে পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে এগিয়েছে, সেটিকে তারা অগ্রহণযোগ্য মনে করছে। ক্লাবের দাবি, এই সংকট তাদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। আলভারেজ বার্সেলোনায় যেতে চান, এমন আলোচনা থামেনি।
কাতালান ক্লাবটিও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে ঘিরে আগ্রহ ধরে রেখেছে। আতলেতিকো পরিচালকমণ্ডলীর দাবি, এই ঘটনায় অর্থনৈতিকভাবে তো বটেই, ক্লাবের সামাজিক অবস্থান এবং সমর্থকদের কাছে ভাবমূর্তিরও অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। মাঠের ফুটবল পেছনে পড়ে গিয়ে প্রতিদিন খবরের পাতায় বার্সেলোনায় আলভারেজের নাম জপ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আক্ষেপ, ‘ওরা আমাদের আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানটাই নিয়েছে আতলেতিকো। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলভারেজকে বার্সেলোনায় বিক্রির কোনো সম্ভাবনাই নেই। ‘বার্সেলোনার কাছে তাঁকে বিক্রির সম্ভাবনা জিরো পার্সেন্ট’—এভাবেই অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে ক্লাবের এক সূত্র।
এর আগে বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাবের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্ক আতলেতিকোর অবস্থান বদলাতে পারেনি। ক্লাবের একটি সূত্রের কথা, ‘এটি টাকার বিষয় নয়, এটি মর্যাদার বিষয়।’ এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কাতালানরা যত কোটি ইউরো নিয়েই আসুক না কেন, বার্সেলোনার জন্য আলভারেজ ট্রান্সফারের দরজা পুরোপুরি বন্ধ।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে একটি সাজানো নাটক দাঁড় করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ আতলেতিকোর। ক্লাব সূত্রগুলোর দাবি, ‘মিথ্যা আর অর্ধসত্য দিয়ে এক বিষাক্ত ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে। আর এর পুরো মূল্য চোকাতে হচ্ছে আতলেতিকোকে।’