পরিবারসহ সমুদ্রে ডুবতে ডুবতে বেঁচে গেলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলার
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে অনেকেই কোথাও ছুটি কাটাতে যান। আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার মার্টিন দেমিচেলিসও পরিবার নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন উরুগুয়েতে। সেখানে হোসে ইগনাচিও সৈকতে ছুটির আনন্দের মধ্যে ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে। উরুগুয়ের সাংবাদিক গুস্তাভো দেসকালজির ভাষায়, ‘তাঁরা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।’
অলৌকিক বলার কারণ, পরিবারসহ সাগরে প্রায় ডুবে যেতে বসেছিলেন দেমিচেলিস। উরুগুয়ের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর এই ঘটনাটি ঘটে। আশপাশে থাকা উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাটি দেখে ফেলায় বেঁচে যান আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও তাঁর পরিবার। তিন সন্তান বাস্তিয়ান (১৬), লোলা (১২) ও এমাসহ (৮) দেমিচেলিসকে সার্ফারদের বাঁচানোর ঘটনা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, স্ত্রী ইভানজেলিনা অ্যান্ডারসন ও সন্তানদের নিয়ে উরুগুয়ের পুন্তা দেল এস্তে অঞ্চলে ২০২৫ সালের শেষ দিনগুলো কাটাতে চান দেমিচেলিস। নববর্ষ বরণের সময় কাটাতে সেখান থেকে যান হোসে ইগনাচিও সৈকতে। এ সময় দেমিচেলিসের ভাতিজিও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা সৈকতের যে অংশ গিয়েছিলেন সেখানে সাঁতার কাটা নিষেধ। আর্জেন্টিনার টিভি অনুষ্ঠান ‘এ লা টার্ডে’তে সঞ্চালক কারিনা মাজোকো বলেন, ‘তাঁরা সমুদ্রে সাঁতার কাটতে শুরুর এক পর্যায়ে বুঝতে পারেন পানি থেকে আর উঠতে পারছেন না।’ কারিনা কথা বলার সময় দেমিচেলিস এবং তাঁর সন্তান ও ভাতিজিকে উদ্ধারের ভিডিও দেখানো হয় স্ক্রিনে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রবল স্রোতে সন্তানদের সঙ্গে সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিলেন দেমিচেলিস। ‘এ লা টার্ডে’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক অলিভার কুইরোজ সালাজার বলেন, একটি সূত্র তাঁকে দেমিচেলিস ও তাঁর পরিবারকে উদ্ধারের সময় লাইফগার্ড ছিল না বলে জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, তীব্র ঢেউ তীর থেকে দেমিচেলিস এবং তাঁর পরিবারকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সমুদ্রের পানির প্রবল শক্তির কারণে তাঁরা তীরে ফিরতে পারছিলেন না। নিকটবর্তী উদ্ধারকর্মীরা তখন একটু দূরেই সার্ফিং করছিলেন। নিজেদের সার্ফবোর্ড ব্যবহার করে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেমিচেলিস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচান। সাংবাদিক গুস্তাভো দেসকালজি আর্জেন্টিনার টিভি অনুষ্ঠানটিতে বলেন, ‘এটা অলৌকিক বিষয় যে তারা বেঁচে আছেন। যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে সেই জায়গাটার নাম এডেন রক—সেটা সান ভিসেন্তের কাছে, যেখানে তাঁরা বাসা ভাড়া করেছিলেন।’
দেমিচেলিস আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০৫ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৫১ ম্যাচে ২ গোল করেছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫ কোপা আমেরিকায় রানার্স আপ হন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের ম্যাচে মাঠে ছিলেন দেমিচেলিস। ক্লাব ফুটবলে রিভার প্লেট, বায়ার্ন মিউনিখ, মালাগা, ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলে খেলেছেন। রিভার প্লেটের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগ, বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন তিনি। অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে নামেন ৪৫ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার। বায়ার্ন মিউনিখের বয়সভিত্তিক ও রিভার প্লেট ঘুরে ২০২৪ সালে মেক্সিকান ক্লাব মন্তেরেইয়ের দায়িত্ব নেন। গত বছর মে মাসে ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যান দেমিচেলিস।