বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানি, মরিনিও বললেন ‘পর্তুগালে হোক’
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে দু মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। কোথায় ফাইনাল হবে, তা নিয়ে তো একরকম লড়াইয়েই নেমেছে মরক্কো আর স্পেন। আগামী বিশ্বকাপে ম্যাচ হবে মোট ছয়টি দেশে। এর মধ্যে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে হবে একটি করে ম্যাচ। বাকি সব ম্যাচ হবে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে।
মূল তিন স্বাগতিকের মধ্যে স্পেন ও মরক্কো ফাইনাল আয়োজন করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এত দিন ফাইনালের ভেন্যু হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ, আরও স্পষ্ট করে বললে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। তবে এ সপ্তাহে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা মরক্কোতেই বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি করেছেন। এরপর তা নিয়ে স্পেনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
শুক্রবার মাদ্রিদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর কাছে। আপনি ফাইনালটা কোথায় দেখতে চান— এমন প্রশ্নে পর্তুগিজ এ কোচের উত্তর,‘ফাইনালটি কোথায় হওয়া উচিত আর আমি কোথায় দেখতে চাই—দুটি দুই বিষয়। আমাকে মাফ করবেন (হাসি), আমি চাই লিসবনে হোক।’
মরিনিওর দেশ পর্তুগাল, এ জন্যই যে তিনি এমন চান তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ এটাও জানেন, বাস্তবে আসলে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। মরিনিও তাই হাসি থামিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে নয়, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে আমার উত্তর হলো— যদি আপনার এমন এক ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ থাকে যেখানে বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়রা খেলেছেন…তাহলে ফাইনাল মাদ্রিদেই হওয়া উচিত।’
সম্প্রতি রিয়ালের ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
তবে মাদ্রিদে ফাইনাল আয়োজনের কথাটা যে রিয়ালের কোচ হওয়ায় পক্ষপাতিত্ব করে বলছেন না, সেটা স্পষ্ট করে মরিনিও বলেন, ‘আমি বেনফিকার কোচ হলেও একই কথা বলতাম।’
মরক্কো যেখানে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করতে চায়, সেটি অবশ্য এখনো তৈরিই হয়নি। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কাসাব্লাংকার উপকণ্ঠে ‘কিং হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন।
অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার। নির্মিত হলে বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এটি।