আর্জেন্টিনার জালে কাবরালের বাঁকানো শটই বিশ্বকাপের সেরা গোল

আর্জেন্টিনার জালে দুর্দান্ত সেই গোলের পর সিডনি কাবরালের উদ্‌যাপনরয়টার্স

বাঁ প্রান্ত থেকে ডান পায়ে বাঁকানো রকেট–শট আর্জেন্টিনার জালে পাঠিয়েছিলেন কেপ ভার্দের সিডনি কাবরাল। তখনই বোঝা গিয়েছিল, কাবরালের গোলটি ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা গোলের তালিকায় থাকবে। তবে বিশ্বকাপ শেষে আর শুধু অন্যতম সেরা নয়, ভোটাভুটিতে শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে কাবরালের গোলটিই হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা গোল।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে কাবরালের গোলটি। এতে কেপ ভার্দের অভিষেক বিশ্বকাপ হয়ে উঠল আরও স্মরণীয়। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানের এলদর সমুরদোভের গোল এবং তৃতীয় সেরা হয়েছে মরক্কোর বিপক্ষে হাইতির উইলসন ইসিদোরের গোল।

আয়তন বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম ও জনসংখ্যায় তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। ১৯ জুলাই পর্দা নামা বিশ্বকাপে রূপকথার গল্প এঁকেছিল তারা। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলের বিরুদ্ধে ড্র করে অপরাজিত থেকে নাম লেখায় শেষ ৩২-এর রাউন্ডে। সেখানে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা থামলেও ম্যাচে কাবরালের ওই রকেট-শট স্থান করে নেয় ইতিহাসের পাতায়।

নকআউট পর্বের সেই ম্যাচের আগে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বলেছিলেন, ‘আশা করি মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলতে পারব।’ আলোকচিত্রীরা তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন। আর ম্যাচের পর কাবরাল লিখে ফেললেন নিজের এক অমর গল্প।

অবিশ্বাস্য সেই গোলের বর্ণনা দিতে গিয়ে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনোস্পারের এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে কাটিয়ে গিয়ে সামনে ফাঁকা জায়গা পাই এবং মনে মনে ভাবি, একটা শট নেওয়া যাক। দুই পা দিয়েই ভালো শট নিতে পারি। আমি ফাঁকা জায়গাটা দেখে ওপরের কোণটার দিকে লক্ষ্য স্থির করি। তারপর সুন্দরভাবে বলে শট নিই।’

আরও পড়ুন

বল জালে জড়ানোর পরের মুহূর্তটি যেন এখনো স্বপ্ন মনে হয় কাবরালের কাছে, ‘নিজের চোখেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে দেখি সবাই চিৎকার করছে, মাথায় হাত দিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছে। কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়াতে শুরু করলাম। তখন আমার উপলব্ধি হলো বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি দুর্দান্ত গোল করেছি। প্রত্যেকেই তো বিশ্বকাপে গোল করার স্বপ্ন দেখে; কিন্তু এত বড় মঞ্চে এমন বড় দলের বিপক্ষে এত সুন্দর একটি গোল করাটা ছিল অবিশ্বাস্য।’

২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভারের পর দ্বিতীয় ফুলব্যাক হিসেবে সেরা গোলের খেতাব পেলেন কাবরাল। ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুলব্যাক মার্সেলোও! রোমাঞ্চিত কাবরাল বলেছেন, ‘ম্যাচের পর মার্সেলোর কাছ থেকে একটি বার্তা পাই। তিনি আমার অন্যতম বড় একজন আদর্শ। আমি সব সময় তাঁর প্রশংসা করি। একজন লেফটব্যাক, দুই পায়েই খেলতে পারেন। তিনি আমাকে বলেছেন, টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে আমার গোলটিকেই ভোট দিয়েছেন।’

কাবরালের এই উত্থানের গল্পটা যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। মাত্র তিন বছর আগে জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ক্লাবে খেলতেন তিনি। ঘরের জানালায় পর্দার বদলে ব্যবহার করতে হতো পলিথিনের ব্যাগ। সেখান থেকে গত জুনে পর্তুগালের বেনফিকা হয়ে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনোস্পার—আর সবশেষে বিশ্বকাপের মহামঞ্চে টুর্নামেন্টের সেরা গোল!

আরও পড়ুন