আর্সেনাল ডেড বল থেকে গোল করলেই বোনাস পান সেট–পিস কোচ
সেট-পিসকে যেন নিজেদের ট্রেডমার্কে পরিণত করেছে আর্সেনাল। এই মৌসুমে আর্সেনাল সব প্রতিযোগিতায় পেনাল্টির বাইরে সেট-পিস থেকে ৩২টি গোল করেছে, যার মধ্যে ২৪টি এসেছে কর্নার থেকে। রোববার চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে কর্নার থেকে ২ গোল করার পর তাদের প্রিমিয়ার লিগে কর্নার গোলের সংখ্যা এখন ১৬।
আর মাত্র ১ গোল করলে তারা এক মৌসুমে কর্নার থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙবে। এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আর্সেনাল, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ওল্ডহাম অ্যাথলেটিক এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ওয়েস্ট ব্রমউইচ কর্নার থেকে ১৬টি করে গোল করেছিল। আর্সেনালের নতুন রেকর্ড গড়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
সেট-পিসে আর্সেনালের দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের অন্যতম কারিগর নিকোলাস জোভের। ৪৪ বছর বয়সী জোভের ২০২৫ সালে চুক্তি নবায়নের সময় বোনাসের একটি বিশেষ ধারাও যোগ করান। এই ধারা অনুযায়ী ডেড-বল পরিস্থিতিতে দলের সাফল্যের জন্য তাঁকে বোনাস দেওয়া হবে।
এর আগে ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর জোভের সেট-পিস নিয়ে দলের মধ্যে দারুণ কাজ করেন। তাঁর হাত ধরেই সেট পিসে সবচেয়ে দুর্বল দলগুলোর একটি থেকে সেরাদের কাতারে উঠে আসে ‘গানার’রা।
২০১৬ সালে জোভের ব্রেন্টফোর্ডে কাজ শুরু করেন। সেখানে ডিন স্মিথ ও টমাস ফ্রাঙ্কের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। লন্ডনের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে একসময় পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটি ছাড়ার কাছাকাছিও চলে গিয়েছিলেন। তবে পরে নতুন চুক্তি পাওয়ায় থেকে যান। ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়ার আগে জোভের ফ্রান্সের মঁপেলিয়েতে ভিডিও বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি নিকো কোভাচের অধীনে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আর্সেনালের কর্নার কিন নেওয়ার কৌশল শুরু হয় কিক নেওয়া খেলোয়াড়দের মাধ্যমে। সাধারণত ডেকলান রাইস ও বুকায়ো সাকা হাত তুলে ইশারা দেন। এই সংকেতেই বক্সের ভেতরে থাকা সতীর্থরা নিকোলাস জোভেরের সাজানো পরিকল্পনা অনুযায়ী নড়াচড়া শুরু করেন। কখনো খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে গিয়ে ব্যাক পোস্টে জড়ো হন। আবার চেলসির বিপক্ষে যেমনটি দেখা গেছে, সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল হঠাৎ ব্যাক পোস্টের দিকে দৌড় দেন।
আরেকটি ভিন্ন কৌশলে দেখা যায়, খেলোয়াড়েরা দূরের পোস্টের পেছন দিক থেকে গোললাইন ঘুরে গোলরক্ষকের সামনে এসে অবস্থান নেন। এখানে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য গ্যাব্রিয়েল। তাঁকে যেখান থেকে শুরু করেছেন, সেই জায়গা বদলানোর স্বাধীনতাও দেওয়া হয়। এর ফলে গ্যাব্রিয়েল দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে বলের সঙ্গে ভালোভাবে সংযোগ তৈরি করতে পারেন।
আর্সেনালের ফ্রি-কিকেও রয়েছে আলাদা কৌশল। কখনো খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে অফসাইড অবস্থানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। কিক নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলে তাঁরা ধীরে ধীরে গোলমুখ থেকে সরে যান। ডেকলান রাইস হাত তুললে খেলোয়াড়েরা মাঠজুড়ে দৌড় দেন এবং বলটি মারার ঠিক আগে দ্রুত অনসাইডে ফিরে আসেন। এসব কৌশল ব্যবহার করেই মূলত সেট–পিসে দারুণ সাফল্য লাভ করে আসছে আর্সেনাল।
গত মাসে আরতেতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জোভেরকে অন্য কোনো দল প্রধান কোচ হিসেবে নিয়ে যেতে পারে কি না। জবাবে আর্সেনাল কোচ বলেন, ‘আমি জানি না। আমার মনে হয়, এটা অনেকটাই নির্ভর করে একজন মানুষ তার ফুটবল ক্যারিয়ারকে কোন পথে এগিয়ে নিতে চান, তার ওপর। তিনি এক দিকে যেতে চান, নাকি অন্য দিকে—এটা খুবই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’