বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে: কত দিন থাকবে, ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলা যাবে কি

এবারের ফিফা ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। সেখানে ট্রফি হাতে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোরয়টার্স

আজ আবারও বিশ্বকাপ ফুটবলের আসল ট্রফি আসছে বাংলাদেশে। এর আগে ফিফার ট্রফি ট্যুর বাংলাদেশে এসেছে ২০০২, ২০১৩ ও ২০২২ সালে। ফিফা ট্রফি ট্যুর শুরু হয় ২০০৬ সালে। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে নিয়ম করেই বিশ্বভ্রমণে বের হয়ে ভক্তদের কাছে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি। প্রথম গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এরপর আরও কয়েকটি দেশ ঘুরে এবার বাংলাদেশে আসবে ট্রফি। ১৫০ দিনের সফরটা শেষ হবে বিশ্বকাপে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে। ১২ জুন মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর কী, কবে থেকে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু

বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটাকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল–ভক্তদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিতেই আয়োজিত হয় ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকা–কোলার সঙ্গে যৌথ আয়োজনে এই বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর আয়োজন করছে ফিফা। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে পূর্বনির্ধারিত কিছু দেশের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হয় বিশ্বকাপ ট্রফি। গত ২০ বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফুটবল–ভক্ত ট্রফি ট্যুরে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ দর্শন করেছেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটা বাংলাদেশে আসছে
রয়টার্স

ট্রফি ট্যুরে কি আসল ট্রফিই থাকে

হ্যাঁ, আসল ট্রফিই থাকে এই বিশ্বভ্রমণে। ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম ওজনের নিখাদ সোনায় তৈরি ট্রফিটিই বিশ্বকাপজয়ী দলকে শুরুতে দেওয়া হয়। তবে ট্রফিটি সব সময় ফিফার তত্ত্বাবধানেই থাকে। বিশ্বকাপজয়ী দলকে পরে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি।
আরও পড়ুন

ট্যুরে কারা ট্রফি বহন করেন, কারা ধরতে পারেন

বিশেষ বিমানে চড়েই বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ফিফার নির্বাচন করা ফুটবল কিংবদন্তিরা সঙ্গী হিসেবে থাকেন ট্রফির সঙ্গে। ২০২২ সালে যেমন বাংলাদেশে ট্রফির সঙ্গে এসেছিলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দলের সদস্য ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু। এবার সৌদি আরবে শুরু ট্রফি ট্যুরের প্রথম পর্বে ছিলেন ২০০৬ সালের ইতালির বিশ্বকাপজয়ী সদস্য আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। বাংলাদেশের এবারের সফরে ফিফার প্রতিনিধি ট্রফির সঙ্গে আসছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার সুযোগ সবার নেই। শুধু বিশ্বকাপজয়ীরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফিফা সভাপতিই আসল বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করতে পারেন।
২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটা বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু
শামসুল হক

২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর কবে থেকে শুরু হয়েছে

৩ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ট্রফি ট্যুর। ট্রফিটা সবার আগে গেছে সৌদি আরবে।

কোন কোন দেশে যাবে, শেষ হবে কোথায়

এবার বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। বাংলাদেশে অবশ্য শুধু ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলই প্রদর্শিত হবে ট্রফি। পুরো ট্রফি ট্যুর শেষ হবে ১৫০ দিনে।
সৌদি আরবে শুরু হওয়া ট্রফি ট্যুর এরপর মিসর, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া হয়ে গেছে ভারতে। ভারত থেকেই ট্রফিটি আজ বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশ থেকে যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যাবে। কানাডা থেকে আবার যুক্তরাষ্ট্র হয়ে মেক্সিকোতে গিয়ে শেষ হবে সফর।
আরও পড়ুন

সাধারণ দর্শকেরা কি ট্রফি দেখতে পারবেন, ছবি তুলতে পারবেন

ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ইন্টারঅ্যাকটিভ ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমো ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছিল কোকা-কোলা। সেই ক্যাম্পেইন বিজয়ীরাই শুধু এ ট্রফি দেখতে পারবেন। ছবি তোলার সুযোগও পাবেন। সকাল ১০টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশ্বকাপ ট্রফিকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেখান থেকে বেলা দেড়টার পর ট্রফি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ট্রফি থাকবে র‍্যাডিসন ব্লুতে।
এবারের ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে সৌদি আরবে
রয়টার্স

ট্রফি দেখতে গেলে কী কী নিয়ম মানতে হবে

ট্রফি দেখার জন্য কোকা-কোলার ক্যাম্পেইন বিজয়ীদের অবশ্যই বৈধ টিকিটের প্রিন্ট কপি বা সফট কপি অথবা স্ক্রিনশট দেখাতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কোকা–কোলার ক্যাপও সঙ্গে নিতে হবে।
‎‎আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ট্রফি স্পর্শ করা যাবে না। ৭/১০ ইঞ্চির চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা যাবে না। ভেন্যুতে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনোভাবেই টিকিট হস্তান্তর, পুনরায় ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে না। ধারালো বা নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকাও সঙ্গে আনা যাবে না।
আরও পড়ুন